সিবিএন ডেস্ক:
তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে কাবুলে। কেউ তালেবানের নতুন রূপের প্রচারক, কেউ বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন নেতৃত্বের একাংশ। কিন্তু ব্যতিক্রম দলের প্রধান হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। তার এই আন্তরাল যাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

এবারই প্রথম নয়, বরাবরই আড়ালে থেকেছেন তালেবান প্রধান। ২০১৬ সালে দলের সংকটকালে তিনি হাল ধরেন। সেই সময়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে টুকরো টুকরো হতে বসেছিল সংগঠন। মাথাচাড়া দেয় গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। তবে দায়িত্ব নিয়েই দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে সমর্থ হন তিনি।

পরিকল্পিতভাবেই তার দৈনন্দিন কাজকর্ম সেভাবে জনসমক্ষে আনা হয়নি। শুধু কিছু বিশেষ বিশেষ দিনে তার বার্তা সর্বসমক্ষে প্রচার করা হতো। তালেবানের তরফে হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার একটি ছবি প্রকাশকে বাদ দিলে তার সম্পর্কে আর তেমন কিছু জানা যায় না। তিনি কোথায় রয়েছেন, কী করছেন— সবটাই ধোঁয়াশা। গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের পরেও সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

দলটির শীর্ষ নেতার বিশ্বের নজর থেকে আড়ালে থাকার রীতি অতীতেও ছিল। প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরও নিজেকে আড়ালে রাখতেন। ৯০-এর দশকে আফগান মসনদ দখলের পর হাতেগোনা কয়েক বার তাকে কাবুলে দেখা গেছে। কান্দাহারের আবাসে নিজেকে আটকে রেখেছিলেন তিনি। এমনকি কোনও বিশেষ প্রতিনিধি দল দেখা করতে চাইলে অধিকাংশ সময়েই ফিরিয়ে দিতেন।

হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাও মোল্লা ওমরের সেই কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করেন একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের এশিয়া বিষয়ক প্রধান লরেল মিলার। আখুন্দজাদার পূর্বসূরি মোল্লা আখতার মনসুর নিহত হয়েছিলেন মার্কিন ড্রোন হামলায়। মিলারের মতে, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে দলীয় প্রধানের ব্যাপারে এই কৌশল নিয়েছে তালেবান।

হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুর খবর নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এ সপ্তাহেই তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘শিগগিরই তাকে দেখতে পাবেন।’ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইমতিয়াজ গুল মনে করেন, কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তালেবান। মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তান ছাড়ার প্রহর গুনছে তারা। তারপরই হয়তো সামনে আসবেন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। সূত্র: আনন্দবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •