ইফতেখার শাহজীদ, কুতুবদিয়া:
কুতুবদিয়ায় পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানকে অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ ওঠেছে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনী গ্রামের মোঃ সেলিমের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে (২৬ আগষ্ট) সেলিমের স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী জোছনা আকতার বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৯৯৬ সালের ২৯ নভেম্বর বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনী গ্রামের মৃত মফিজুল আলমের ছেলে মোঃ সেলিমের সাথে রেজিষ্ট্রার্ড কাবিন মূলে বিয়ে হয় মৃত আবদুল শুক্কুরের মেয়ে জোছনা আকতারের। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। তাদের প্রথম মেয়ের বিয়ের পর পরনারীতে আসক্ত হয়ে পড়ে সেলিম। রোজগারের বেশিরভাগ টাকা পরনারীর পেছনে খরচ করার ফলে সংসারে অশান্তি ও দারিদ্রতা নেমে আসে।

পরকীয়ার জেরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী জোছনা আকতারকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকায় নারী নির্যাতন আইনে ২০১৭ সালে একটি (মামলা নং-৮৪৯/২০১৭ইং) এবং ২০২০ সালে একটি সহ (মামলা নং- ৩৩৭/২০২০ইং) আদালতে দু’টি মামলা রুজু করেন ভুক্তভোগী জোছনা আকতার।

এদিকে তাদের দ্বিতীয় মেয়েও বিয়ের উপযুক্ত হয়ে ওঠায় স্থানীয় গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় জোছনা আবারো সেলিমের সাথে সংসার করতে রাজি হয়। কিছুদিন ঠিকঠাক মতো চলার পর সেলিম আবারো বেপরোয়া হয়ে জোছনার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এ ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এ একটি সি.পি মামলা (মামলা নং-১৪৯/২০২১ইং) দায়ের করে জোছনা।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ আগষ্ট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাদী বিবাদী উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে ডেকে আনেন। তদন্তের পর মোঃ সেলিমের অন্যায় কর্মকান্ড প্রমাণিত হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে জোছনা আকতারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অফিসের কর্মচারীদের হস্তক্ষেপে বড় কোন ঘটনা ঘটতে পারেনি।

সেই আক্রোশে গত ২৬ আগস্ট বিকালে নিজ বসতঘরে ভাই ইসমাইলকে সাথে নিয়ে জোছনা আকতার সহ ছেলেমেয়েদের বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরে প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন স্থানীয় মেম্বার। এ ঘটনায় আহতদের দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে এজাহার সূত্রে জানা গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •