ইমাম খাইর, সিবিএন:
সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কেন্দ্র প্রধান) ডঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্যকর উপায়ে শুটকির উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাচ্ছে। মাছিকে বন্ধ্যা করে শুটকির উৎপাদন বাড়ানো হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সাদারণত ৪ প্রজাতির মাছি রয়েছে। সেখানে এক প্রকার খুব ক্ষতিকর।
২১ আগষ্ট কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচিতি ও কর্মশালায় ডঃ শফিকুর রহমান এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, এখন মাছি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। একটি সংরক্ষিত স্থানে কিছু মাছি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রেখে ডিম্বাণু ছড়ানোর গুন নষ্ট করা হবে। সেই মাছে ছড়িয়ে পড়ে যেসব মাছের সংমিশ্রণ ঘটবে সব মাছি জীবণু/ডিম্বাণু ছড়ানোর সক্ষমতা হারাবে। অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর শুটকি মৌসুম। নিজেদের প্রয়োজনে তার আগেই শুরুর পরামর্শ দেন ডঃ শফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারাপদ চৌহান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অসীম বরণ সেন ও সামুদ্রিক গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।

মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ‍‘উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে শুটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রসার’ শীর্ষক সভায় করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে শুটকি মাছ প্রস্তু ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা হবে। ২টি কম্পোনেন্টে কাজ চলবে। কর্মসূচীর বৃহৎ পরিসরে কক্সবাজার শহরের নাজিররাটেক, কুতুবিদয়াপাড়া, এবং স্বল্প পরিসরে মহেশখালী এবং সদরের খুরুশকুলে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর।

বক্তব্য দেন সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কেন্দ্র প্রধান) ডঃ শফিকুর রহমান।

উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক আহমদ গিয়াস বলেন, উন্নত মানের শুটকি উৎপাদনে সমস্যা ও সংকট চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। তাহলে কক্সবাজার থেকে বিশ্বমানের শুটকি উৎপাদন সম্ভব।

শুটকি শ্রমে জড়িতরা উন্মুক্ত আলোচনায় কয়েকটি সংকটের কথা তুলে ধরেন। সেখানে অন্যতম হলো- হঠাৎ বৃষ্টি আসলে মাছ সংরক্ষণ করা দায়। নেট দিয়ে শুকালে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকে না। সে কারণে শুটকি কম উৎপাদন হয়। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কৌশলের দরকার মনে করেন সংশ্লিষ্টজনেরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে ‘কোল্ড স্টোরেজ’ দরকার বলেও জানান বক্তারা।

আলোচনায় ওঠে আসে, শুটকির জন্য মাছ ধরা থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রযুক্তিগত বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।
হলুদ-মরিচ ব্যবহার করলে শুটকিতে পোকা-মাকড় আসবে না। পচন ঠেকানো যাবে। শুটকি শ্রমে শিশুদের কোনভাবে জড়ানো যাবে না। লাভের চিন্তার আগে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
সৎভাবে ব্যবসা করা ইবাদতের সমতুল্য। মানুষের স্বাস্থ্যহানিকর কাজ করলে তার দায় এড়ানো যাবে না। শুটকিতে বিষ মেশানো জাতি হত্যার অপরাধ হিসেবে গণ্য।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিবেশ কর্মকর্তা নেজামুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় শুটকি খাতে জড়িত ব্যবসায়ী, মহাল মালিক, এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ার্কশপে তানজিরা খানম, খুশি বণিকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।