নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র চিরিঙ্গায় রয়েছে অন্তত ২০টি বিপনী বিতান। এসব বিপনী বিতানের মালিক ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় হাজারো। কিন্তু তাদের নিয়মিত ধর্মচর্চার জন্য জন্য কোন বিপনী বিতানে নেই স্থায়ী ধর্মীয় স্থাপনা তথা মসজিদ। অবশেষে তাদের ধর্মচর্চার জন্য স্থায়ীভাবে বিশাল পরিসরে প্রতিষ্ঠিত হল মসজিদ-এ বায়তুল ফারুক নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ।
পৌরশহরের নিউ সুপার মার্কেটের উপরের তলায় মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে। এটি স্থাপনের পর ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদটিতে ধর্মীয় চর্চা শুরু হয়েছে।
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম ফিতা কেটে উদ্বোধন এবং জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে এই মসজিদে ধর্মচর্চার শুরু হয়েছে। এদিন এমপি উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যও রাখেন। এ সময় তিনি ওই বিপনী বিতানের মালিক মরহুম আলহাজ ফারুক আহমদ চৌধুরীর রুহের আত্মার মাগফেরাতও কামনা করেন।
এমপি জাফর আলম বলেন, ‘চকরিয়া পৌরশহরে অসংখ্য বড় বড় বিপনী বিতান রয়েছে। কিন্তু কোন মালিক ধর্মচর্চার জন্য স্থায়ী মসজিদ স্থাপন করেননি। অবশেষে নিউ সুপার মার্কেটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি স্থাপন হওয়ায় আল্লাহর দরবারে লাখো-কোটি শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি বিপনী বিতানের মালিক মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ ফারুক আহমদ চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান ডা. মোসলেহ্ উদ্দিন ফারুক রিয়েলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এমন উদ্যোগ নেওয়ায়।’
মসজিদ স্থাপনের উদ্যোক্তা ডা. মোসলেহ্ উদ্দিন ফারুক রিয়েল বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চকরিয়া মার্কেট মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি মারা যাওয়ার পর ইছালে সওয়াবের জন্য মার্কেটের উপর তলায় একটি স্থায়ী মসজিদ স্থাপনের ঐকান্তিক ইচ্ছে ছিল আমার। অবশেষে মরহুম আলহাজ ফারুক আহমদ চৌধুরী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে আধুনিক মানের টাইলস, সিলিং, সেন্ট্রাল এসি, অযুখানা, টয়লেট স্থাপনসহ বিভিন্ন কারুকাজের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, প্রায় আড়াইশজন এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্রথমদিনে প্রায় ৪০০ জনের মতো মুসল্লী উপস্থিত হন নামাজ আদায় করতে। তাই মসজিদের পরিসর আরো বাড়ানো হবে। যাতে কেউ ফেরত না যায়। প্রথমদিন জুমার নামাজে ইমামতি করেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব। মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন মার্কেট মালিক ও দোকান কর্মচারীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •