এস এম সাদ্দাম হোসাইন

২২আগষ্ট ২০০৪ সাল। আমি তখন নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। পথিমধ্যে দেখা মিলে মানিক বৈরাগী ( তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি) মামার। ইশারায় মামা ডাকলে আমি কাছে যাই। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি নুরুল হক বদ্দার ছেলে?” আমি বললাম “জ্বী”। প্রতিউত্তরে বললেন “থাকো, মিটিং আছে”।

মানিক মামাকে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই দেখতাম। সবসময় পরিপাটি থাকতেন তিনি। বেশ ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। অনেকে বলতেন আওয়ামীলীগ নেতা মামলার আসামী হয়ে আমাদের এলাকায় পালিয়ে এসেছে। পারিবারিকভাবে আমরা যেহেতু আওয়ামীলীগ সমর্থক ও মুজিববাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেই সুবাদে মানিক মামাকে আমার তখন থেকেই ভাল লাগত। তাই ওনার কথা মত অপেক্ষা করেছিলাম সেদিন।

আজকালের ছেলেদের মত এতো বেশি চালাক চতুর আমি ছিলাম না। ক্লাসের সবার চেয়ে বয়সে ও আকারে ছোট ছিলাম আমি। তেমন মানুষজন ও চিনতাম না। সেসময় জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন রুবেল ভাই। যতটুকু জানি সেদিনের প্রোগ্রামের আয়োজন করেছিলেন মানিক মামা। ওনার কথামতো প্রচন্ড খিদে লাগা স্বত্বেও অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষারত ছিলাম।

কিছুক্ষণ পরে দেখলাম মানিক মামা ঠিকই আসছে। সাথে আসছে আমার আপন বড় ভাই মাইক নিয়ে। স্মার্ট বেশভুষা অনেক লোকজন ও সেদিন সাথে আসছিল। সব স্পষ্ট মনে পড়ছেনা, তবে ধারণা করতে পারছিলাম কিছু একটা তো হতে যাচ্ছে।

মানিক মামা মাইকে এনাউন্স করলেন গতকাল নেত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা কক্সবাজারে সবার আগে প্রতিবাদ মিছিল করব আজ। এইটুকু স্পষ্ট মনে আছে আমার এবং এখনো আমার কানে বাজে সেদিনের বজ্রকন্ঠে ডাক দেওয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদসরূপ।

প্রোগ্রামে মানিক মামা ও বর্তমানে সিটি কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল নোমান ভাই থেকে জানতে পারি সেদিনের উপস্থিত অতিথিদের সম্পর্কে। সেদিন উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসাইন সিকদার ভাই, মনছুর আলী ভাই,এডঃ রেজাউল করিম ভাই, কামাল বোরহান উদ্দিন শাহান,ডাক্তার শফিকুল ইসলাম টুনু,মোশারফ হোসাইন সিকদার,মাষ্টার সৈয়দ নজরুল,জসিমুল ইসলাম, তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম কাজল,মিজান উল্লাহ সিকদার,নুর হোসাইন,উত্তম কুমার মহাজন,রশিদ আহমদ,মিজান উল্লাহ সিকদার,টিটু শর্মা এবং আমার বড় ভাই সহ আরো অনেকেই। ইতোপূর্বে মরহুম ডাক্তার মুফিজুল হক সিকদার ও মরহুম মোতাহারুল হক সিকদার পৃথিবীতে আর নেই যারা সেদিনের সাক্ষী ছিলেন।

তখন প্রায়ই প্রোগ্রাম শেষ হলে জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসা গেইট সংলগ্ন তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাঃ সম্পাদক ডাক্তার শফিকুল ইসলাম টুনু মামার দোকানে আমরা নাস্তা করতাম। এবং সেদিনও প্রোগ্রাম শেষে বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল বোরহান উদ্দিন সাহান ভাই উপস্থিত আমাদের সকলকে নাস্তা করিয়েছিলেন।

সেই দিনের মুজিববাদী রাজনীতি থেকেই আমার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সূচনা, রাজনীতির অভিষেক। সেদিনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়েই ধারাবাহিকভাবে নানা সংগ্রাম,অর্জন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ অবধি নিজেকে একজন ছাত্রলীগের অতিনগন্য কর্মী পরিচয় দিতে পেরে খুবই গর্ববোধ করি। মানিক মামা সহ সেদিনের প্রোগ্রামে উপস্থিত শ্রদ্ধাভাজন সকলের প্রতি আমরণ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •