নুরুল কবির, বান্দরবান থেকে:

বান্দরবানকে ইয়াবা ও মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালানসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তারের ঘটঁনায় জেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি থেকে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এক লাখ ৭১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। যাহা বাজার মুল্য ৫কোটি ১৩ লাখ টাকা । এটি ইয়াবা পাচারের সবেচেয়ে আলোচিত ও বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা ।

এদিকে বান্দরবানের সাথে মিয়ানমারের সীমান্ত থাকায় মাদক পাচারকারীরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম ও থানচি সীমান্তকে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানাান, গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টায় দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারোগ্যা পাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি উছালা মারমা পিন্টু (৩৫)। তিনি সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হাই স্কুলের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।

জানা গেছে, তিনি নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরদিন ২১ আগস্ট উপজেলা যুবলীগের প্যাডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে জানানো হয়, মাদকসহ গ্রেপ্তার, সংগঠনের পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকায় সোনাইছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি উছলা মারমাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। পাবত্যমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন সাংবাদিকদের কাছে ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা উছলা মারমা গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, সংগঠন পরিপন্থী ও ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকায় উছলাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য জেলার জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কেলু মং নাইক্ষ্যংছড়ি যুবলীগ নেতাকে বহিস্কারের বিষয়ে অবহিত হয়েছেন জানিয়ে গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, যে কেউ অপরাধ করুক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক সেবন, ব্যবসা বা পাচারের বিষয়ে সংগঠন জিরো টলারেন্স, এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান নিয়ে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তারের ঘঁনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা ইয়াবার মত মারাত্মক মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াসবসহ মাদক ব্যবসায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলেও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক ব্যবসাকে তারা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয় না।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন এলাকা দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকহারে ইয়াবা পাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •