সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিলো ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালো রাতের বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের সাথে একই সূত্রে গাঁথা। মূলত: আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতক চক্র। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে যান।
ওই সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার জগন্য এ ঘটনার দায় কোনভাবেই এড়াতে পারেনা। তাই একু্শে আগস্টের মাস্টার মাইন্ড তারেক রহমানসহ জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন নেতৃবৃন্দ।
শনিবার বিকেলে উখিয়ার কোটবাজার স্টেশনে উপজেলা যুবলীগ আয়োজিত ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তার বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যন্যদের মধ্যে রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসহাব উদ্দিন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, জেলা যুবলীগের সিনিয়র নেতা হুমায়ুন কবির চৌধুরী হিমু, বেন্টু দাশ, মির্জা ওবাইদ রুমেল, ইসমাইল সাজ্জাদ, দিদারুল ইসলাম রুবেল ও আহসান সুমন বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উখিয়া উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহ-সভাপতি রতন কান্তি দে, কফিল উদ্দিন চৌধুরী, গাজী শাহজাহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস চৌধুরী, নুরুল আবছার চৌধুরী, শাহজাহান চৌধুরী, বশির আহমদ আজাদ, রাসেল উদ্দিন সুজন, মোহাম্মদ শাহজাহান, মাসুদ আমিন শাকিল, রহমত উল্লাহ, মোজাম্মেল সিকদার, এডভোকেট সাকু আলম, আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাকিম বাবুল, ক্রীড়া সম্পাদক জসিম উদ্দিন মুছা, দিদারুল আলম, নুরুল আলম মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল হারুন মানিক, মকুসুদ চৌধুরী, আনোয়ার কবির, খোরশেদ আলম দুলাল, আহছান উল্লাহ বাবরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার ৫ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণসহ শত শত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৭ বছর আগের এই দিনে মুহুর্মুহু গ্রেনেডের বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। মানুষের আর্তনাদ আর কাতর ছোটাছুটিতে তৈরি হয় এক বিভীষিকা। গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে পড়ে ওই হামলায়। আজ সেই ২১ আগস্ট, রক্তাক্ত বিভীষিকাময় দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে অতর্কিতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মারা যান আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী।
সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •