এম.আর মাহমুদ

বেশ ক’যুগ ধরে মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সীমান্তরক্ষীরা প্রতিদিনই কম বেশী ইয়াবার চালান জব্ধ করছে। কোন কোন সময় ইয়াবা পাঁচারকারীও আটক হচ্ছে। আবার ইয়াবা পাঁচারের সাথে জড়িত পালের গোদারা অধরা রয়ে যাচ্ছে।

কেউ কেউ ইয়াবা পাঁচার করে অঢেল টাকা-পয়সা, সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছে। তারা সমাজের দানবীর খ্যাতি নিয়ে বীরদর্পে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার যাদের কপাল পোড়া তারা অনেকেই ক্রসফায়ারের শিকার হয়ে দৃশ্যমান আজরাঈলের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। ইয়াবা পাঁচার করে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যও লাল দালানের মেহমান হয়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে। তারপরও ইয়াবা পাঁচার বন্ধ হচ্ছে না। সরবে নিরবে ইয়াবা পাঁচার অব্যাহত রয়েছে। ইয়াবা যেন ধ্র“প্রদীর শাড়ী, যতই টানে ততই লম্বা হয়।

ইদানিং ইয়াবার সাথে পাল্লা দিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে স্বর্ণের বারও পাঁচার হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি বড় বড় স্বর্ণের চালান জব্ধ করেছে। ইয়াবার কারণে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু স্বর্ণের কারণে যুব সমাজ ধ্বংস না হলেও দেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আবার স্বর্ণের বার জব্ধের নামে লুট করতে গিয়ে ফেনী ডিবি পুলিশের পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শকসহ ৬ জন এখন রিমান্ডে। ফেনী পুলিশ এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ধৃত পুলিশদের কথামত স্বর্ণের মূল মালিক ও স্বর্ণ লুট মামলার বাদী সাবেক পার্টনার সাঈদুল হককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ মামলার বাদী হচ্ছেন কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগাস্থ গোপাল কান্তি দাশ। তার বাবাও ছিলেন চিরিংগার একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে গোপাল স্বর্ণের দোকান করতেন। এখন চকরিয়াতে তার কোন স্বর্ণের ব্যবসা নাই। চট্টগ্রামেই স্বর্ণের ব্যবসা করেন। তার দাবী সে একজন বৈধ স্বর্ণের ব্যবসায়ী। ডিবি পুলিশ কর্তৃক লুন্টিত স্বর্ণগুলো বৈধ কিনা তা প্রমাণের দায়িত্ব গোপালের। কথা হচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে বেশুমার স্বর্ণের দোকান বিশেষ করে চকরিয়া পৌর সদরে ব্যাঙের ছাতার মতই গজিয়ে উঠেছে স্বর্ণের দোকান। তাদের দোকানে রক্ষিত স্বর্ণগুলো বৈধ না হলে প্রকাশ্যে ব্যবসা চালাচ্ছে কিভাবে? তবে স্থানীয়দের দাবী বেশিরভাগ স্বর্ণের বৈধতা নেই। আবার স্বর্ণের ব্যবসার আড়ালে চলছে সুধী ব্যবসা। ইদানিং স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ভাগ্যের পরিবর্তন লক্ষণীয়। অধিকাংশ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসেই নতুন নতুন মডেলের গাড়ী নিয়ে রাতের আঁধারে কক্সবাজার সীমান্ত থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে থাকে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

সূত্র মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্বর্ণের চালান জব্ধ করার সাথে কামলা শ্রেণির রোহিঙ্গাদের আটক করছে। কিন্তু মূল হোতারা বার বার রয়ে যাচ্ছে অধরা। এ ক্ষেত্রে জব্ধ স্বর্ণের একটি অংশ গায়েব হচ্ছে না তা কারও পক্ষে বলার সম্ভব নয়। বিজ্ঞজনদের অভিমত, স্বর্ণের মালিক গোপালের কপালে কি আছে তা এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই বের করবে। বৈধভাবে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে চকরিয়াতে উঠতি বয়সী একটি স্বর্ণ চোরা-চালান চক্রের সিন্ডিকেট করে তারা চট্টগ্রাম শহরেই ব্যবসা করে যাচ্ছে নিরাপদে। বৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবী মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে পাঁচার করা স্বর্ণগুলো নিম্নমানের। এসব স্বর্ণ কেমিক্যাল মিশিয়ে অলংকার তৈরি করে উন্নত মানের স্বর্ণের চাইতে কম দামে বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র দাবী করেছেন, মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই কম বেশী স্বর্ণের চালান উখিয়ে টেকনাফ হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার হচ্ছে। চক্রটির পালের গোদাদের আটক করতে সক্ষম না হলে স্বর্ণ ও ইয়াবা পাঁচারের মত হতে পারে। তখন দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এছাড়া এসব স্বর্ণের সিংহভাগই ভারতে পাঁচার হচ্ছে বলে বিজ্ঞজনদের অভিমত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •