সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে “আইনগত সহায়তা কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে এডভোকেসি” সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কুতুপালং ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও লোকাল এইড কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলোয়াত করেন মৌলভী মোহাম্মদ হোসাইন। উক্ত স্কুলের আইটিসির সিনিয়র শিক্ষক রূপন দেওয়ানজির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন-উক্ত বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অরবিন্দু বড়ুয়া ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ মন্নান, উখিয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য সাংবাদিক নুরুল হক খান ও অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাদশা মিয়া।
কক্সবাজার জেলায় মানবাধিকার বিষয়ে এডভোকেসি এবং সচেতনতা বাড়াতে সিএসও/সিবিওদের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপির অর্থায়নে মানবাধিকার প্রকল্পের শীর্ষক প্রবন্ধ সভায় পাঠ করেন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক রীতা বালা দে। উক্ত সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে বিস্তারিত ধারণা দিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা উপকূলীয় পল্লী উন্নয়ন পরিষদ (তটচটচ) এর প্রধান নির্বাহী-নুরুল আমিন সিদ্দিক। তিনি সভায় উপস্থিত অংশ গ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন-জানতে হলে শিখতে হবে, বাঁচতে হলে জানতে হবে।

সেহেতু তিনি সভায় সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৯৪৮ সনের জাতিসংঘের প্রজ্ঞাপনকৃত ঘোষণার সারমর্মটি উপস্থাপন করেন যে- অধিকার বিষয় আমাদের ন্যায্য দাবী ও মর্যাদার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এটি আমাদের দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা পূরণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়। এক কথায় অধিকার প্রাপ্তি ও অর্জন আমাদের সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। যেমন-জন্ম থেকেই বেঁচে থাকার সম্মানজক অধিকার, কারও প্রতি কোন বৈষম্য নয়, স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনের অধিকার, কোন প্রকার দাসত্ব নয়, নিষ্ঠুর নির্যাতন, অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ, মানুষ হিসাবে পৃথিবীর সর্বত্র সমান অধিকার, আইনের চোখে সবাই সমান, বিচার আদালতে প্রতিকার লাভের অধিকার, বেআইনীভাবে আটক বা দেশ থেকে নির্বাসন নয়, নিরপেক্ষ বিচার লাভের অধিকার, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা অধিকারক, নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার, নিজ দেশে নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিন্ন দেশে আশ্রয় লাভের অধিকার, জাতীয়তা লাভের অধিকার, বিবাহ এবং পরিবার গঠনের অধিকার, সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার, ধর্ম, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতা অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও সমিতি গঠনের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার, স্বাধীনভাবে কাজ বেছে নেওয়ার অধিকার, বিশ্রাম ও অবসরের অধিকার, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তির অধিকার, সবার জন্য শিক্ষার অধিকার, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের অধিকার, মুক্ত বিশ্বে সকলের অংশীদারিত্বের অধিকার, অন্যের অধিকার সুরক্ষায় নিজের দায়িত্ব ও মানবাধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না। ইহাই হচ্ছে সার্বজনীন মানবাধিকারের গুরুত্ব বহন করে। তিনি আরো বলেন-জেলা উপকূলীয় পল্লী উন্নয়ন পরিষদ, (তটচটচ) ও (অষষরধহপব ভড়ৎ ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ ধহফ ষবমধষ অরফ ইধহমষধফবংয) একলাব এবং কক্সবাজার এনজিও/সিএসও/ মানবাধিকার কোয়ালিফিকেশন সমন্বিত উদ্যোগে কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত সংস্থার উদ্যোগে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং, হলদিয়া পালং, জালিয়া পালং ও পালংখালী ইউনিয়ন সমূহে আইনী সহায়তা সহ সার্বজনীন মানবাধিকার শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য এই সভার গুরুত্ব অপরিসীম। উক্ত সভায় অত্র এলাকার জনপ্রতিনিধি, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা প্রতিনিধি, এলাকার সমাজ কমিটির প্রতিনিধি, গ্রামীন নারী ক্ষমতায়ন ও শিশুকন্যা অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সিভিল সোস্যাইটির প্রতিনিধি, স্থানীয় লিগ্যাল এইড কমিটির প্রতিনিধিরা ও সাংবাদিকবৃন্দ সহ ৩২ জন নারী-পুরুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মতবিনিময় সভায় অংশ গ্রহণ করেন। উক্ত উপকূলীয় পল্লী উন্নয়ন পরিষদ ১৯৯২ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চল সমূহে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সাল থেকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নে সরকারী উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচী (আনন্দ স্কুল) সহ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে। উক্ত কমূসূচীর পাশাপাশি উখিয়ার জালিয়াপালং, রাজাপালং, রত্মাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নে আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন উক্ত সংস্থা। রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে তারই অংশ হিসাবে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •