এম.এ আজিজ রাসেল:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এখানকার পর্যটন শিল্প। সারা বছর কক্সবাজার ভ্রমণে এসে সৈকত মাতিয়ে রাখতেন দেশ—বিদেশের হাজারো পর্যটক। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে গত চার মাস বন্ধ ছিল পর্যটন কেন্দ্রসহ হোটেল—মোটেল ও গেষ্ট হাউস। সেই থেকে প্রাণহীন পর্যটন সেক্টর। সুনসান নিরবতা ছিল সমুদ্র সৈকত। তবে ১৯ আগস্ট থেকে স্বাস্থবিধি খুলছে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। এতে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরেছে সৈকতে। ইতোমধ্যে সৈকতে ভিড় করছে পর্যটকসহ স্থানীয়রা। এখানে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতেছে সবাই। হতাশা দূর করে অনেকেই মেতে উঠেছে সমুদ্র স্নানে। অনেকদিন ধরে করোনায় ঘরবন্দি থেকে মুক্তি পেতে সৈকত এসে স্বস্তি লাগছে বলে জানিয়েছেন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।

এদিকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে নতুনভাবে সাজছে হোটেল—মোটেলগুলো। ধোয়া—মুছার কাজ চলছে সর্বত্র। ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন ব্যবসায়ীরা এবার ক্ষতি পুষিয়ে স্বপ্ন বুনছেন লাভের। পর্যটকদের দেওয়া হচ্ছে হোটেলগুলোতে ৩০—৬০ শতাংশ ছাড়। গ্রাহক—দর্শনার্থী আকৃষ্ট করতে রিসোর্ট, বিনোদন পার্কগুলোর ফেসবুক পেজে চলছে ‘বুস্টিং’। চলছে নানা ধরনের ছাড়ের অফার। বিভিন্ন ধরনের সেবার ওপর ৫০—৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। হোটেলগুলোতে ১৯ ও ২০ আগস্টের জন্য অর্ধেক ধারণক্ষমতার রুম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন গন্তব্যে সরকারি—বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো দৈনিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে চায়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা, নভোএয়ার প্রতিদিন ঢাকা—কক্সবাজার—ঢাকা পথে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। যাত্রীদের চাপ আছে। এই বিষয়ে ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আরও ফ্লাইটের অনুমতি চাই। কারণ বিদেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক সচ্ছল পরিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে চান।’

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল—মোটেল, গেস্টহাউসের প্রস্তুতি শেষ। পর্যটক টানতে হোটেলগুলো ৩০—৬০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষভাড়ায় ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ, রেস্তোরাঁ মালিকদের সাতটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘ছাড়ের কারণে বেশ সাড়াও মিলেছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।’

দেশি—বিদেশি পর্যটকের পছন্দের জায়গা টেকনাফ—কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের মারমেইড বিচ রিসোর্ট। এই রিসোর্টের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, ‘তাঁরা কক্ষ ভাড়ায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

তারকা মানের হোটেল সি—গাল, সায়মান বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, কক্স—টুডে, লং বিচসহ বিভিন্ন হোটেলে কক্ষ ভাড়ায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে থাকবে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিম। বিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। সরকারী নির্দেশনা মতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রসমূহে আসার জন্য পর্যটকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি।, তিনি আরও বলেন, ‘সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলি, কবিতা চত্তর, ইনানী ও পাটুয়ারটেক—এই ৬টি পয়েন্টে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের শক্তিশালী টিম।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘জীবন—জীবিকার প্রয়োজনে এবং পর্যটন শিল্পকে অগ্রসর করতে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পুনরায় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘করোনার এই দুঃসময়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আমরা রিসোর্ট, হোটেল—মোটেল ও বিনোদন পার্কগুলোর মালিকদের পরিষ্কার বলে দিয়েছি, স্বাস্থ্যবিধি না মাললে বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হবো। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে করোনা সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •