নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুকি রানী কাজ করেন সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ডাবের দোকানের শ্রমিক হিসেবে। করোনার এই মহামারীতে পর্যটক না থাকায় অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছিলেন। খেয়ে না খেয়ে থেকেছেন অনেক দিন। সরকারী বেসরকারি যেসব সহায়তা পেয়েছিলেন তাও পর্যাপ্ত ছিল না।
এভাবে নিজের অভাব অনটনের কথা বলছিলেন তিনি। শনিবার “রওফা ” ফাউন্ডেশনের ত্রাণ সহায়তা পেয়ে খুশি খুকি রানী।

শুধু খুকি রানী নই, করোনার এই সময়ে ভালো নেই পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত অনেকেই । অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে জীবন পার করছেন তারা। দীর্ঘ চার মাসের চেয়ে বেশী সময় ধরে বন্ধ রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র। এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়েছে।
সমুদ্রকে পুঁজি করে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, সে সকল পর্যটন শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দিলো রওশন ফাতেমা ফাউন্ডেশন (রওফা)।
শনিবার বিকেলে
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে শতাধিক শ্রমিকদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ। এসময় তিনি বলেন, সামাজিক এসব সংগঠন কাজ করছে বলেই সমাজের অসহায় মানুষেরা আজ কিছুটা হলেও সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে। তিনি সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন এবং বিত্তবানদের এ ধরনের মহৎ কাজে নিজেদের নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন।

রওফা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেঁজুতি তৌফিক জানান, হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মহীন পর্যটক সেবায় নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই রওফা ফাউন্ডেশন। এসব কাজে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন রওফা চেয়ারম্যান।
ত্রাণ বিতরণ কালে বিশেষ অতিথি ছিলেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছৈয়দ মুরাদ ইসলাম। সোনালি ব্যাংকের অফিসার আলমগীর বিন আকবর, উপস্থিত ছিলেন বীচ কিটকট মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার বীচ ঝিনুক ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি মোঃ রুবেল। আগামী ১৯ আগষ্ট সরকারী সিদ্ধান্তে পর্যটন কেন্দ্র শর্ত-সাপেক্ষে খুলে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতেই খুশি ত্রাণ নিতে আসা শ্রমিক এবং পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িতরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •