অন্তর দে বিশাল:
সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ শেষে পুরোদমে মাছ ধরতে সাগরে জেলেরা। জেলেদের প্রত্যাশীত রুপালি ইলিশ মাছ তারা পেলেও পাচ্ছে না ন্যায্য দাম।

অন্যদিকে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র নেমেছে স্বল্প দামে জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ ক্রয় করে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার পর হাতে ঝুঁলিয়ে নিয়ে বিক্রি করার মিশনে। কক্সবাজার শহরের প্রতিটি অলিগলিতে দেখা দিয়েছে সংঘবদ্ধ ভ্রাম্যমাণ ইলিশ বিক্রেতা।

ভালো খারাপ মিশিয়ে বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করে চড়া দামে ইলিশ মাছ বিক্রি করছে তারা। এসব ইলিশ যতক্ষণ বরফে ঢাকা থাকে ততক্ষণ তরতাজা দেখায়। মিনিট পাঁচেক পর পঁচা ও লবন দিয়ে সংরক্ষণ করা মাছের অবস্থা দেখা দিচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঠকছে ক্রেতারা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্হানীয় কিছু অসাধু মাছ বিক্রেতারা জেলেদের সাগরে মাছ ধরা বন্ধের সুযোগে সুদের টাকা ধার দিচ্ছিলো, যার ফলে সুদের টাকা পরিশোধ করতে তারা এই সব অসাধু মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়ে। বড় বড় ইলিশ তারা এই সব অসাধু বিক্রেতাদের দিয়ে ফেলতে হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ ইলিশ বিক্রেতারা বেশির ভাগ সময়ে ৬ নং ফিশারি জেটি ঘাট এলাকায় মাছ উঠানামা ও মাছ পরিস্কার কাজে থাকে। তারা বেলা গড়াতেই প্রভাবশালী অসাধু সিন্ডিকেট মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে অর্ধেক শেয়ারে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে। একটি ভালো মাছ দেখিয়ে অন্য একটি মাছ তারা দিয়ে দিচ্ছে। কোন রকম ক্রেতাকে তারা চড়া দামে মাছ বিক্রি করতে পারলে ঐ এলাকায় সেই দুইতিন ধরে যায় না, অন্য জায়গায় সেই আবারো সাধারণ ক্রেতাদের ঠকানোর কাজে লেগে পড়ে।

জানা গেছে, কক্সবাজার কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় মৌসুম হোটেলের পাশে তারা সকাল হলে এই মাছ নিয়ে আসে, ওখান থেকেই মূলত তারা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্রি প্রতিনিধির মাধ্যমে হাতে ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে বরফে ঢাকা ইলিশ মাছ বিক্রি করে বেড়াচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এক ক্রেতা প্রণব দাশ জানান, বড় ইলিশ খেতে কার না ভালো লাগে। দাম যেমনটা হোক, ভালো মাছ হলে তো ঠিক রয়েছে। তবে ভ্রাম্যমাণ এই সব বিক্রেতারা ভালো মাছের চেয়ে খারাপ মাছ বেশি বিক্রি করতেছে। এমনকি একটি ভালো মাছ দেখিয়ে অন্য একটি মাছ তারা দিয়ে দিচ্ছে। গতকাল প্রায় ৩ কেজির উপরে ১৭০০ টাকা দিয়ে ৩টি ইলিশ ক্রয় করছি পান বাজার রোড়ে অবস্থান করা এক ভ্রাম্যমাণ ইলিশ বিক্রেতা থেকে।

ভালো বলে আমাকে মাছ দাম করার আগে প্যাকেট করে দিচ্ছে, বাসায় এসে দেখি ৩ টি ইলিশ মাছই পঁচা। পরে গেয়ে দেখি সেই বিক্রি নাই, অন্য কয়েকজন ঠিক হাতে নিয়ে বিক্রি করতেছে। এইভাবে হলে সাধারণ মানুষ তো ঠকবে প্রতিনিয়ত।

ক্রেতার অভিযোগে প্রেক্ষিতে স্বজমিনে কক্সবাজার শহরের পান বাজার রোড়ে দেখা মিলে হরেকরকমের মৌসুমি ইলিশ বিক্রেতা। চেহারা দেখলে সহজ সরল মনে হলেও তারা কমিশনের মাধ্যমে বিক্রি করতেছে এই মাছ যার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকিয়ে খারাপ ভালো মিলে অধিক দামে বিক্রি করতে পারলে তাদের কমিশনের টাকা বাড়ে।

জানা যায়,সাগর থেকে মাছ জেলেরা ঘাটে আনার পরই অসাধু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৭-৮ মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে মাছ স্বল্প দামে ক্রয় করে।

আর বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করে লবণ মিশ্রিত ও বরফের ঢাকা রেখে সংরক্ষণ করে তারা,দাম বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে তারা প্রতিনিধি দিয়ে বা নিজেরা ক্রেতা ঠকানোর কাজে নেমে পড়ে।

মূলত অধিক লাভের আশায় তারা শহরে ইলিশের চাহিদা সৃষ্টি করে,পরে সেটা চড়া দামে বিক্রি করে।

এমন কয়েকটি সিন্ডিকেট কাজ করে যাচ্ছে শহরের কয়েকটি জায়গায়, যার মাঝে অন্যতম শহরের গুরত্বপূর্ণ জনবহুল সড়ক ভোলা বাবুর প্রেট্রোল পাম্প এলাকায় পান বাজার সড়কে তাদের অধিপত্যে বিস্তার বেশি বলে জানা গেছে।

এমন সিন্ডিকেটের সদস্য নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন জানান, সাধারণত সহজ সরল মানুষ দেখে আমরা এই মাছ বিক্রি করি। তাতে লাভও অধিক হয়। এই মাছ আমরা কয়েকজন মিলে জেলেদের থেকে ক্রয় করে মজুদ করে রাখি, পরে চাহিদা সৃষ্টি হলে আমরা প্রতিনিধি বা নিজেরা বিক্রির কাজে নেমে পড়ি। আমাদের একাধিক গ্রুপ রয়েছে পান বাজার,কোর্ট বিল্ডিং, বাজার ঘাটা, গোলদীঘির পাড় সহ সব জায়গায় রয়েছে। তবে আমরা পান বাজার এলাকায় বেশি এই মাছ বিক্রি করে সুবিধা করি।কারণ এখানে গ্রাম হতে নিত্যনতুন মানুষ আসে,শহরের অনেক মানুষ ভালো মাছ চিনে না বড় দেখলে দাম যা হোক কেনে পেলে।

সংশ্লিষ্ট মাছ বিক্রেতাদের সূত্রে জানা যায়, ৬৫ দিন সাগরে মাছ বন্ধ থাকার পর যখন বড় বড় ইলিশ জেলেদের জালে পড়ে তখনই মৌসুমি বিক্রেতারা সাধারণ ক্রেতা ঠকাতে স্বল্প দামে মাছ ক্রয় করে চড়া দামে ও সাইজে বড় মাছ গুলা সংরক্ষণ করে বিক্রি করে। যার ফলে বাজারে চাহিদা তৈরি হয়ে যায়। মানুষ ভালো খারাপ বিবেচনা না করে ঠকছে এই সব মৌসুমি ইলিশ বিক্রেতাদের কাছে।

এনিয়ে কক্সবাজার সচেতন মহলের দাবী, ভ্রাম্যমাণ মৌসুমি ইলিশ বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত ঠকাচ্ছে সাধারণ সহজ সরল ক্রেতাদের। অসাধু এই সব মৌসুমি ইলিশ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। না হলে সাধারণ ক্রেতারা বিশ্বাস ও আশা হারাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের মাঝেও।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •