ইমাম খাইর, সিবিএন:
৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একযোগে শুরু হওয়া করোনা টিকা কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্টের ৫০০ প্রশিক্ষিত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছে। তাদের কাজের সমন্বয় করছেন ইউএনএইচসিআর ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এমআরআরও এর প্রশিক্ষিত কর্মীবৃন্দ ৩৪ টি ক্যাম্পেই ডাটা এন্ট্রির দায়িত্ব পালন করছে।
গনস্বাস্থকেন্দ্র পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০ আগষ্ট সকাল ১১টায় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আরআরআরসি শাহ রেজওয়ান হায়াত। ক্যাম্পে ৫৪টি টিকাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিকভাবে, পঞ্চান্ন ও তদোর্ধ বয়সী ৪৮,০০০ ক্যাম্পবাসী এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।এই কর্মসূচিতে ৩৪টি ক্যাম্পের ৫৪ টি টিকাকেন্দ্রে থাকছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টের ৫টি স্বাস্থকেন্দ্রে পরিচালিত হচ্ছে টিকাদান কার্যক্রম। এই ৫টি কেন্দ্রে সম্পৃক্ত হয়েছেন রেড ক্রিসেন্টে কর্মরত ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য চিকিৎসা কর্মীগণ।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজারের হেড অব অপারেশন এম এ হালিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “করোনার সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে অন্যান্য জায়গার মতো কক্সবাজারের সকল নাগরিকদেরকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার বিকল্প নেই। এতে বহুমানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। এই মহামারি বন্যা, ভূমিধ্বস এবং আগুনসহ বহুমাত্রিক সংকটে জর্জরিত ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জীবনকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের লক্ষাধিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা সরকারের টিকাদানকর্মসূচিকে সফল করতে দেশব্যাপী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার ও ক্যাম্পগুলোতেও আমাদের সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা টিকাকার্যক্রমে সহায়তা করছে। এর পাশাপাশি ক্যাম্পের মানুষকে টিকা নিতে আগ্রহী করে তোলার জন্য বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে টিকাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রচারে রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।”
করোনা মোকাবেলায় সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস (আইএফআরসি) এর সহায়তায় পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন (পিএমও), ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় মিয়ানমার রিফিউজি রিলিফ অপারেশন (এমআরআরও) এবং কক্সবাজার জেলা ইউনিটের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে চলছে এসব কার্যক্রম।
কথা হয় টিকাগ্রহন করতে আসা ক্যাম্প নিবাসী প্রবীণা সিরাজ খাতুনের (৬২) সঙ্গে, “আমরা খুবই ভীত ছিলাম, কারণ ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস জ্বরের কথা শুনতে পেলেও কম জায়গায় আমরা অনেক লোক একসাথে থাকি। যে কারও এই জ্বর হলে মৃত্যু ঝুঁকি আমাদের সবার। এখন এই টিকা পেয়ে স্বস্তি বোধ করছি।”
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৩ শতাংশের কম মানুষ সম্পূর্ণভাবে কোভিড-১৯ টিকা সুবিধার আওতায় এসেছেন এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা সরকারের এসব কর্মসূচিতে শুরু থেকেই সহযোগিতা করছে। দেশে চলমান গণটিকা কর্মসূচিতেও সহায়তা করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ক্রমবর্ধিত সংক্রমণ মোকাবেলায় কক্সবাজারে রেড ক্রিসেন্ট এখন পর্যন্ত দুইটি আইসোলেশন ও ট্রিটমেন্ট সেন্টার তৈরী করেছে, যার মধ্যে এখন একটি চালু রয়েছে। ক্যাম্পের প্রায় ৯ লক্ষ মিলিয়ে কক্সবাজারের এই স্থানে প্রায় দশ লক্ষ চব্বিশ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা করোনা মহামারির আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে ছিলো। সম্মিলিত মানবিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইএফআরসি, অন্যান্য রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায়, রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজারে ইতোমধ্যে ছোটো-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪ টি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিদিন এসব কেন্দ্র থেকে স্থানীয় ও ক্যাম্পের অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •