মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া-কুতুবদিয়া:
পেকুয়া উপজেলায় একটি পানকৌড়ি পাখি শিকার করে ভোজন করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি স্থানীয় বন বিভাগ! এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি বাদশা মিয়া তার বাড়ির পিছনের পুকুর থেকে একটি পানকৌড়ি পাখি শিকার করার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে “এই মাত্র ফানিহরি ধরলাম একটা বাড়ির পিছন থেকে অনেক সাধের একটা পাখি” এসব লিখে স্ট্যাটাসও দিয়েছিল! তবে কিছুক্ষণ পর তার দেওয়া স্ট্যাটাসটি নিজের আইডি থেকে ডিলিট করে দেন। স্ট্যাটাসটি দেওয়ার পর অনেকেই তা স্ক্রীণ শর্ট করে রাখেন।

জানা যায়, অভিযুক্ত বাদশা মিয়ার বাড়ি পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের রব্বত আলী পাড়া গ্রামে। তবে বর্তমানে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পেকুয়া বাজারের পূর্বপার্শ্বে বাড়ী করে বসবাস করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে বাদশা মিয়া পেকুয়া বাজারের পূর্ব পার্শ্বস্থ তার বাড়ির পিছনের পুকুর থেকে একটি পানকৌড়ি পাখি (স্থানীয় ভাষায় পানিহরি নামে পরিচিত) শিকার করেন। পাখিটি শিকার করে বাদশা মিয়া তার বাসায় নিয়ে যান। এসময় পানকৌড়ি পাখির গলা চেপে ধরে ও দুই পা চেপে ধরে নিজের এনড্রয়েট মোবাইল ফোনে ছবি তুলেন। তারপর নিজের ফেসবুক একাউন্টে স্ট্যাটাস লিখে দুইটি ছবি শেয়ার করে দেয়। পরে অবশ্য সেই স্ট্যাটাস ডিলেট করে দেয়। পাখিটি শিকারের পর ছবি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর জবাই করে পানকৌড়ি পাখিটির মাংস রান্না করে খায়।

এ বিষয়ে জানার জন্য আজ সন্ধ্যায় বাদশা মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, গতকাল শুক্রবার জুমার নামের পূর্বে পেকুয়াস্থ তার বাড়ির পিছনের পুকুর থেকে ফানিহরি (পানকৌড়ি) পাখিটি ধরেছেন। তবে তিনি সেটি জবাই করেন নি। ছেড়ে দিয়েছেন। ছেড়ে দেওয়ার সময় ভিডিও করে রেখেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর শীতের মৌসুমে আসা পাখিদের মধ্যে রয়েছে বালিহাঁস, পাতিহাঁস, লেজহাঁস, পেরিহাঁস, চমাহাঁস, জলপিপি, রাজসরালি, লালবুবা, পানকৌড়ি, বক, শামুককনা, চখপখিম সারস, কাইমা, শ্রাইক, গাঙ কবুতর, বনহুর, হরিয়াল, নারুন্দি, মানিকজোড়া অন্যতম। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ১৫ প্রজাতির হাঁস ছাড়াও গাগিনি, গাও, ওয়েল, পিগটেইল, থাম, আরাথিল, পেলিক্যান, পাইজ, শ্রেভির ও বাটান এসব পাখি এসে থাকে।

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের পাখি দুই শ্রেণির। আবাসিক আর অনাবাসিক। অতিথি পাখি অনাবাসিক শ্রেণির আওতায় পড়ে। আবাসিক ও অনাবাসিক মিলে দেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। যার মধ্যে ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৩০০ প্রজাতি অনাবাসিক। সব অনাবাসিক পাখি শীতের সময় আসে না। ৩০০ প্রজাতির মধ্যে ২৯০টি শীত মৌসুমে আসে ও ১০টি প্রজাতি থেকে যায়। আর এই থেকে যাওয়া ১০ টি পাখির মধ্যে একটি হচ্ছেন পানকৌড়ি।

জানা যায়,১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।

এদিকে উক্ত ঘটনার স্থানীয়রা পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বন রেঞ্জ অফিসে অবহিত করলেও বন বিভাগ এখনো পর্যন্ত পাখি শিকারে অভিযুক্ত বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

পানকৌড়ি পাখি শিকার করে জবাইপূর্বক মাংস ভোজনের অপরাধে বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করা হলেও পেকুয়ার বারবাকিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লাকে পাওয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •