পরিতোষ বড়ুয়া পবন

মহান সৃষ্টিকর্তার পর অসুস্থ অবস্থায় আমরা যার উপর ভরসা করি তিনিই একজন ডাক্তার। সৃষ্টিকর্তার কৃপা ও একজন ডাক্তারের উছিলায় রোগী সুস্থতা ফিরে পেতে পারে।

কিন্তু কিছু কিছু ভুল মানুষের কারণে মাঝে মাঝে যদিও ডাক্তারদের আমরা ভুল আখ্যা দিয়ে থাকি কিন্তু বাস্তবিক অর্থে একজন ডাক্তার হলেন দেব তুল্য।

করোনাকালীন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই শিরোনাম হতে দেখা গেছে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের নানান অসুবিধা এমনকি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মত ঘটনা। আবার এই দু:সময়ে নিজের জীবন বাজী রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন অনেক চিকিৎসক। স্বয়ং কক্সবাজারবসীয় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

তেমনই একজন মানবিক ও দায়ীত্বশীল ডাক্তার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবের সদ্য বিদায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডা: আদনিন মৌরিন।
২০২১ সালের শুরুর দিকে দেশে করোনার প্রকোপ কিছুটা কম ছিল। জানুয়ারি—ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে মার্চের প্রথমদিকেও শনাক্ত এবং মৃত্যুর হার কম ছিল। তাই কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটে। কিন্তু মার্চের শেষদিকে ফের করোনার প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয় যখন কক্সবাজার জেলায় সংক্রমণ পরিস্থিতি জটিল করে তুলে ঠিক সেসময় ডা: আদনিন মৌরিন করোনার সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি করোনার ভয়কে জয় করে প্রতিদিন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা চালিয়ে যান।

তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩৫ জনের কোভিড-১৯ ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করেন।

পারিবারিক সমস্যার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে তিনি ২৯ জুলাই ঢাকায় গমণ করেন এবং তথায় ২ আগস্ট USAID এর এডভাইসার হিসেবে যোগদান করেন।

পারিবারিক কারণে ঢাকায় চলে গেলে তিনি কক্সবাজারবাসীর দুর্দিনে যা করে গেলেন তা ভোলার নয়। তিনি তার অদম্য কর্মে জয় করে গেলেন কক্সবাজারবাসীর মন। করোনাযোদ্ধা ডা: আদনিন মৌরিনের কাছে আজ জেলাবাসী ঋণী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •