মাহাবুবুর রহমান :

সোলতান আহামদ। ১৯৮৫ সালের দিকে এসেছিলেন মায়ানমার থেকে। প্রথমে কক্সবাজার শহরে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরে বোট শ্রমিক হিসাবে কাজ শুরু করেন। বিয়ে শাদিও এখানে। তিনি এখন বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। তার জীবন শেষে বেলায় হলেও অন্তত চার প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে দুধেভাতে। তারা অনেক বড় হয়েছে। ছেলে মেয়ে নাতী নাতনীরা প্রতিষ্ঠিত। বিয়েশাদি হয়েছে। সুন্দর সংসার চলছে। রোহিঙ্গা সুলতানের প্রজন্মের অনেকে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছে।

কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী ইসুলুঘোনা এলাকায় সুলতান আহামদ প্রকাশ ভান্ডারী সুলতান আহামদের বসবাস।
সম্প্রতি তার সাথে কথা হয়। স্বীকার করলেন অকপটে, নিজেই জানালেন অনেক অজানা কথা।

জানতে চাইলে সুলতান আহামদ বলেন, আমি ১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে বার্মা থেকে বোটে করে এসেছিলাম। এরপরে এখানে অনেক কাজ করেছি সংসার করেছি।

ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমি যখন এসেছি তখন এখানে কিছুই ছিলনা। সব পাহাড় জঙ্গল ছিল। এগুলো আবাদ করেছি।

সুলতানের ভাষ্য মতে, এখানে কয়েক হাজার বার্মা থেকে আসা লোকজন বসবাস করছে। তার ছেলের নাম শাহ আলম, নুরুল আলম, শামসুল আলম, জাফর আলম, আবু আলম, বদি আলম, শফি আলম। তারা বেশির ভাগই মাছ ব্যবসার সাথে জড়িত।
নাতী নাতনীদের অনেকে এখন প্রতিষ্ঠিত।

মাহবু আলম নামের এক নাতী ঢাকাতে পড়াশোনা করেছে। সে এখন ইঞ্জিনিয়ার। আরেক নাতীর জামাই সাতকানিয়ার নুরে বাংলা। (নুরে বাংলা ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিল)। তিনি বলেন, আসলে সব রোহিঙ্গা খারাপ না। কিছু আছে জানোয়ার।

বিশেষ করে বর্তমানে পাহাড়তলীসহ আশপাশে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে সবাই কোন না কোন রোহিঙ্গা ছেলে অথবা নাতী এর আগেও অনেকে এখানে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছিল তারাও রোহিঙ্গা ছিল।

বাংলাদেশে বর্তমান তার চার প্রজন্ম আছে অর্থাৎ নাতীর ঘরের পুতিও সে দেখেছেন- জানালেন রোহিঙ্গা সুলতান।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোলতান ভান্ডারী একজন থেকে অন্তত ১০০ জন প্রজন্ম হয়েছে। তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত। এভাবে আরো কয়েকটি পুরাতন রোহিঙ্গা পরিবার আছে যারা এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর ফলে রোহিঙ্গারা সহজেই এখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আবার অনেক স্থানীয় তাদের ছেলে মেয়ে বা নাতী নাতনী বিয়ে করে আত্নীয়তা করেছে। ফলে কেউ তাদের সাথে ঝামেলায় যেতে চায় না।

পুরাতন রোহিঙ্গাদের তালিকা করে তাদের আইডি কার্ড বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার শাহাদত হোসেন জানান, সরকার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে । ইতোমধ্যে পুরাতন রোহিঙ্গাদের তালিকার কাজ চলছে। সময় অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •