অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া এক নারী মিউকরমাইকোসিসে (ব্ল্যাক ফাঙ্গাস) আক্রান্ত হয়েছেন। সিটিস্ক্যান রিপোর্টের পর আজ বায়োপসি রিপোর্টে ওই নারী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।

বুধবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে ওই নারী চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘উপসর্গ দেখে আমরা সন্দেহ করেছিলাম, ওই নারী মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্ত। আজ তার বায়োপসি রিপোর্টে এটি নিশ্চিত হয়েছি।’

আক্রান্ত ওই নারীর নাম ফেরদৌসি বেগম (৬০)। তার গ্রামের বাড়ির চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরদৌসি বেগমের ছেলের বউ তাহমিনা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আম্মুর গত ২৪ জুন করোনা শনাক্ত হয়। এরপর নগরের বেসরকারি সিএসসিআর হাসপাতালে ওনাকে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসা নিয়ে নেগেটিভ হন। এরপর বাসায় নিয়ে এলে ওনার মুখে ফোলা দেখা দেয়। আমরা ওনাকে দাঁতের ডাক্তার দেখাই। উনি উপসর্গ দেখে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি সিটিস্ক্যান করানোর পরামর্শ দেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সিটিস্ক্যান করার পর প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হই, উনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত। এরপর ওনাকে পুনরায় সিএসসিআর হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে জানানো হয়, এ রোগের চিকিৎসা ঢাকা ছাড়া সম্ভব নয়। এরপর আমরা ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশে কুমিল্লা পর্যন্ত গেলে জানতে পারি, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা হয়। ওইদিন রাতে কুমিল্লা থেকে ফিরে ওনাকে সেখানে ভর্তি করি। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে আম্মুর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন-বি ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বাজারে ওষুধটির সংকট থাকায় এখনও প্রয়োগ করা যায়নি। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস এই ওষুধ উৎপাদন করে। আমরা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের পর তারাও জানিয়েছে, এই ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের কাছে মজুত নেই। আমরা চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকায় খোঁজ নিয়েছি, কোথাও ওষুধটি পাচ্ছি না। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, সরকার যেন ওষুধটি সরবরাহ নিশ্চিত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করে।’ – বাংলাট্রিবিউন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •