মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডকে ‘করোনা ওয়ার্ড’ এ পরিণত করা হবে। শহরের পশ্চিম বাহারছরার কবিতা চত্বর এলাকায় গড়ে তোলা হোপ আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্রে আরও ৩০ শয্যা বৃদ্ধি করা হবে। আবাসিক হোটেলে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য জরুরিভিত্তিতে কয়েকটি হোটেল খোঁজা হবে।

কক্সবাজারের চলমান ভয়াবহ কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসা সেবা দিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ২৭ জুলাই বিকেলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোঃ মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডকে ‘করোনা ওয়ার্ড’ এ পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে বর্তমানে ৩০টি করে থাকা মোাট ৬০টি শয্যাকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়াও কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছরার কবিতা চত্বর এলাকায় গড়ে তোলা হোপ আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্রে আরও ৩০টি শয্যা জরুরীভিত্তিতে বৃদ্ধি করা হবে। সভায় সরকারি হাসপাতাল গুলোর পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করতে প্রাইভেট হাসপাতাল সমুহের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানানো হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুমন বড়ুয়া, কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডা. পিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল, কক্সবাজার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং টিমের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২ হাজার ৪৩৪ জন হোম আইসোলেসনে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেসনে রয়েছে ৫১৩ জন রোগী। তারমধ্যে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১০ জন, রামু আইসোলেসন সেন্টারে ২৩ জন, চকরিয়া আইসোলেসন সেন্টারে ১২ জন, টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, শহরের পশ্চিম বাহারছরা হোপ আইসোলেসন ও চিকিৎসা কেন্দ্রে ১২ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প সমুহের অভ্যন্তরে থাকা আইসোলেসন সেন্টার গুলোতে রোহিঙ্গা শরনার্থী ২৪৫ জন এবং স্থানীয় নাগরিক ১১৫ জন। অতিরিক্ত করোনা রোগীর চাপ সামলাতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই কক্সবাজার জেলার ৪ টি প্রতিষ্ঠানে ২ ধরনের পদ্ধতিতে করোনা’র নমুনা টেস্ট করে মোট ৩০০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।

তারমধ্যে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ১ হাজার ২১০ জনের নমুনা টেস্ট করে ২৬৩ জনের টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া গেছে। বাকী ৯৪৭ জনের নমুনা টেস্ট রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে।

এছাড়া, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে একইদিন ৮৬ জনের র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট (Rapid Antigen Test-RAT) পদ্ধতিতে নমুনা টেস্ট করে ২৮ জনের টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ শনাক্ত করা হয়। বাকী ৫৮ জনের টেস্ট রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে শনাক্ত হওয়া ২৬৩ জন করোনা রোগীর মধ্যে ৪ জন আগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর ফলোআপ টেস্ট রিপোর্ট। বাকী নতুন শনাক্ত হওয়া ২৫৯ জনের মধ্যে ২ জন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রোগী। অবশিষ্ট ২৫৭ সকলেই কক্সবাজারের রোগী।

তারমধ্যে, ২৭ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী। এছাড়া সদর উপজেলায় ৬৪ জন, রামু উপজেলায় ১৪ জন, উখিয়া উপজেলায় ২৭ জন, টেকনাফ উপজেলায় ৬৯ জন, চকরিয়া উপজেলায় ১৯ জন, পেকুয়া উপজেলায় ৯ জন এবং মহেশখালী উপজেলার ২৮ রোগী রয়েছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে আজ সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক ১২১০ জনের নমুনা টেস্ট করা হয়।

আবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট পদ্ধতিতে নমুনা টেস্ট করে আজ করোনা শনাক্ত হওয়া ২৮ জনের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার রোগী ২২ জন, মহেশখালী উপজেলার রোগী ৩ জন, টেকনাফ উপজেলার রোগী ২ জন এবং উখিয়া উপজেলার রোগী ১ জন।

এছাড়া, একইদিন র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট পদ্ধতিতে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জনের নমুনা টেস্ট করে ৬ জনের রিপোর্ট পজেটিভ শনাক্ত করা হয়। বাকি ৯ জনের টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট পদ্ধতিতে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জনের নমুনা টেস্ট করে ৩ জনের রিপোর্ট পজেটিভ শনাক্ত করা হয়। বাকি ৯ জনের টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। নির্ভরযোগ্য সুত্র সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এনিয়ে, ৪ টি প্রতিষ্ঠানে আজ ২৭ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগী সহ কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো-১৭ হাজার ২২০ জন। এগুলো ছাড়া কক্সবাজারের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সমুহে র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট পদ্ধতিতে আজ করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীও রয়েছে। যা প্রতিদিন জেলার করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা নিরূপণে যোগ হবে।

এদিকে, গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলায় মৃত্যুবরণ করেছে ১৭৬ জন। তারমধ্যে, ২৭ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী। গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ১’৩২% ভাগ।

একইসময়ে সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৭৫ জন করোনা রোগী। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৭৯’৬২% ভাগ। গত ২৬ জুলাই কক্সবাজার জেলায় করোনার নমুনা টেস্টের তুলনায় পজেটিভিটির হার ছিল শতকরা ২৯’২৯ ভাগ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •