মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

সফল শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, বিচারক, জনপ্রতিনিধি ফজলুল করিম’র ২য় মৃত্যু বার্ষিকী আজ মঙ্গলবার ২৭ জুলাই।কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া নিবাসী, পরে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া জামে মসজিদ রোড নিবাসী, সাবেক অনারারী ম্যাজিষ্ট্রেট, বৃহত্তর চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম ২০১৯ সালের আজকের এদিনে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ফজলুল করিম ছিলেন মরহুম ছৈয়দ আকবর ও মরহুমা সামারুপ বেগমের পুত্র। অত্যন্ত মেধাবী ও চৌকষ গুণাবলী সম্পন্ন মরহুম ফজলুল করিম কক্সবাজার জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, মৃত্যুকালীন কক্সবাজার জেলা বিএনপির এক নম্বর উপদেষ্টা, ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাচিত চেয়ারম্যান, কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কস্থ সৈকত উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অবৈতনিক প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল, কক্সবাজার শহরের পৌর প্রিপ্যারেরটরী হাইস্কুল, ভারুয়াখালী হাইস্কুল, রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টেকপাড়া আমেনা খাতুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তাঁর গ্রামে ‘ফজল করিম মাস্টার’ নামে বহুল পরিচিত ছিলেন। অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী মরহুম ফজলুল করিম ১৯৩৯ সালের ৩০ সেপ্টম্বর জম্মগ্রহন করেন। ইংলিশ মিডিয়ামে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করা মরহুম ফজলুল করিম ছিলেন- তাঁর গ্রামের প্রথম পোস্ট গ্র্যাজুয়েট। মরহুম ফজলুল করিম ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার আদালতে অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিষ্ঠা, নৈতিকতা ও সততার সাথে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৃহত্তর চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের প্রথমদিকে ফজলুল করিম সহ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণে শেখ মুজিবুর রহমান চৌফলদন্ডীতে লবণ মাঠ পরিদর্শনে আসেন এবং সেখানে বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করেন। জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল ও সার্থক একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন-মরহুম ফজলুল করিম।

মরহুম ফজলুল করিমের ৩ পুত্র, ৬ কন্যা সন্তান। পুত্র সন্তানদের মধ্যে প্রথম পুত্র সরওয়ার করিম ব্যবসায়ী, দ্বিতীয় পুত্র এডভোকেট সাজ্জাদুল করিম কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী এবং কনিষ্ঠ পুত্র জিয়াউল করিম পেট্রো বাংলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

মরহুম ফজলুল করিম ছিলেন, সততার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন সৎ, নির্মোহ, নির্লোভ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তাঁর সন্তান সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট সাজ্জাদুল করিমের ভাষায় “অনিবার্যভাবে বাবা বিত্তশালী ছিলেন না। এরপরও বাবা ছিলেন আমার নায়ক। অসততা ও ক্ষমতার নিকট হার না মানা এক সুপারহিরো।”

কিংবদন্তি ফজলুল করিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালন করে সীমিত পরিসরে ভারয়াখালীর বানিয়াপাড়ায় কবর জেয়ারত, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে মরহুমের মেঝ সন্তান এডভোকেট সাজ্জাদুল করিম সিবিএন-কে জানিয়েছেন। তিনি তাঁর মরহুম পিতার আত্মার মাগফেরাত ও জান্নাত কামনা করে মহান আল্লাহর অসীম রহমত ও সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •