এস.এম. তারেক, ঈদগাঁও:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট। তম্মধ্যে জালালাবাদের মনজুর মৌলভীর দোকান সংলগ্ন পয়েন্ট, মিয়াজীপাড়া পয়েন্ট, ছাতিপাড়া পয়েন্ট, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গার্লস স্কুল পয়েন্ট, ওয়াহেদের পাড়া পয়েন্ট, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনা পয়েন্ট অতি ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে।
বৃষ্টির পানি এবং ঈদগাঁও হাইস্কুল পয়েন্ট থেকে ঈদগাঁও নদীর পানি অনুপ্রবেশ করে ঈদগাঁও বাজারের ডিসিসড়কসহ অলিগলিসমুহ কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাজারের কয়েকশ ব্যবসা প্রতিষ্টান ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায়। ইতোমধ্যেই বৃষ্টি এবং ঈদগাঁও নদীর পানি ঢুকে প্লাবিত হয়ে পড়েছে জালালাবাদ ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া, বাজারপাড়া, বাঁশঘাটা, তেলীপাড়া, দঃ এবং পূর্বলরাবাগ, ছাতিপাড়া, মিয়াজীপাড়া, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনা, মাইজপাড়া, কানিয়াছড়া, জাগিরপাড়া, সাতঘরিয়াপাড়া, দরগাহপাড়া, লালসরিপাড়া, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ইউছুফেরখীল, ওয়াহেদের পাড়া, খোদাইবাড়ী, রাবার ড্যাম, চরপাড়া, পোকখালী ইউনিয়নের মধ্যম পোকখালী এলাকার নাছির মৌলভীর বাড়ী সংলগ্ন বেড়িবাঁধের ২শ ফুটেরও অধিক অংশ ভেঙ্গে গিয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ।
এছাড়া ওই ইউনিয়নের পরিষদ সংলগ্ন প্রধান সড়কটিও ২/৩ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।
ইসলামাবাদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও কক্সবাজার সদর উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুর রহমান আজাদ জানান, বন্যায় ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে ওয়াহেদেরপাড়া এবং ঢালার দুয়ারের কমবন্যা গ্রামের লোকজন বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে। সকাল থেকে তিনি এলাকার লোকজনদের সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ন পয়েন্টগুলো মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মেম্বার আবদুর রাজ্জাক জানান, নদীর দুপাড়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মান না করা পর্যন্ত এ সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।
অপরদিকে ঈদগাঁও বাজারের জলাবদ্ধতা দুরীকরনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান, ব্যবসায়ী ছৈয়দ করিম।
ঈদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম জানান, পরিষদ ভবনটি ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ১ নং ওয়ার্ডের প্রায় পরিবার ২/৩ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। চরম ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে ঈদগাঁও ইদগড় সড়কের কানিয়াছড়া পয়েন্ট। যেকোন মুহুর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ঈদগাঁওর সাথে ইদগড়ের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে তিন আশংকা প্রকাশ করেন। এছাড়া তার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিমাংশ ৮ নং ওয়ার্ডের পুরো এলাকাসহ অপরাপর ওয়ার্ডসমুহও কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানান। বন্যা নিয়ন্ত্রনে মেহেরঘোনা রেঞ্জ থেকে শুরু করে পোকখালী ইউনিয়নের নতুন খালের মুখ পর্যন্ত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •