আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তিউনেশিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সেনা-ব্যারিকেডের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়িস সায়িদ পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী হিশাম মেশিশিকে বরখাস্ত করার একদিনের মাথায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। খবর আলজাজিরা।

সোমবার (২৬ জুলাই) দেশটির স্পিকার ও এন্নাদা পার্টির নেতা রাশেদ ঘানৌশি পার্লামেন্টর ভবনে প্রবেশ করতে বাধা দেয় সেনা বাহিনীর সদস্যরা।

তবে প্রধানমন্ত্রী হিশাম মেশিশিকে সংবিধান মেনে বরখাস্ত করা হয়নি বলে দাবি করেছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স গ্যালিয়েন। তিনি দেশটির মেনা অঞ্চলের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদে পুরোপুরি মেনে প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপটি নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না।

তিউনেশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে আলজাজিরাকে ম্যাক্স গ্যালিয়েন বলেন, ‘এটি অভ্যুত্থানের মতো হাঁটছে, এটি অভ্যুত্থানের মতো কথা বলছে এবং এর অন্যান্য দিকগুলোতেও একই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা গেছে— পার্লামেন্ট, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন শাখাসহ প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

এর আগে তিউনেশিয়ার অর্থনৈতিক সংকট ও করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। যার জেরে গতকাল রোববার (২৫ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী হিশাম মেশিশিকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়িস সায়িদ।

এ ঘটনার পরই তীব্র প্রতিবাদ জানান পার্লামেন্টের স্পিকার রাশেদ ঘানৌশি। প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপকে ‘অভ্যুত্থান’ অভিহিত করে তা প্রতিহত করতে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। যে কারণে তাকে আজ (সোমবার) পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট সায়িদ যে কোনো সহিংস প্রতিবাদের প্রতি হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, যারা অস্ত্র নিয়ে নামবে তাদের কেউ একটি গুলি ছুড়লে সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা গুলি চালিয়ে তার জবাব দেবে।

তার এ বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাঁজোয়া যান পার্লামেন্ট ঘিরে ফেলে, এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন উল্লাস করছিল ও জাতীয় সংগীত গাইছিল বলে দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ভবনও ঘিরে রেখেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •