বান্দরবান সংবাদদাতা:
বান্দরবানে গৃহকর্মী এক শিশুকে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ গৃহকর্তী মানবাধিকার কর্মী ও অ্যাডভোকেট সারাহ সুদীপাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে বান্দরবান পৌর শহরের বনরূপা পাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২২ জুলাই নিজ বাসার গৃহকর্মী ৯ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে বান্দরবান সদর থানায় আইনজীবী দম্পতি হিসেবে পরিচিত সারাহ সুদীপা ইউনুস ও ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি করেন নির্যাতিত শিশুর স্থানীয় অভিভাবক রওশন আরা। মামলার পর থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহাগ রানা সাংবাদিকদের জানান, শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বান্দরবান সদর থানায় গত ২২ জুলাই ওই গৃহকর্মী জোহরার (৯ বছর) গৃহকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ (৪৫) ও স্ত্রী সারাহ সুদীপা ইউনুসের (৪০) বিরুদ্ধে শিশু আইন ২০১৩ এর ৭০/৮০(১) ধারায় একটি মামলা করা হয়। (মামলা নম্বর ৯, তারিখ ২২/-৭/২১)। মামলাটি করে বিবাদীর প্রতিবেশ রওশান আরা। রওশন আরার মাধ্যমে ওই গৃহকর্মী কাজ নেয় বলে জানা গেছে। গৃহকর্মীর বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার লামারমুখ এলাকায়।

এদিকে বান্দরবানে এক শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘঁনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। নির্যাতিত শিশুটি সাংবাদিক ও পুলিশকে জানায়, তাকে জ¦লন্ত মশার কয়েল দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়াসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে গৃহকর্তী সারাহ সুদীপা ইউনুস।

এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার সারাহ সুদীপা ইউনুস ও ফয়সাল আহম্মেদ দম্পতি নিজেদের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেয়। সারাহ সুদীপ বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হলেও ফয়সালের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। সারাহ সুদীপা একটি মানবাধিকার সংগঠনের সাথেও যুক্ত আছেন বলে জানা যায়। আর স্বামী ফয়সাল বান্দরবানের লামার কেঁয়াজুপাড়াস্থ কোয়ান্টামের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে পরিচিত।

এদিকে মামলার পর পুলিশ নির্যাতিত শিশুটিকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিয়ে জেলা সমাজসেবার কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে আদালতে নেয়া হলে আদালতের নির্দেশে নির্যাতিত শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সেইফহোমে (নিরাপদ আবাসন) প্রেরণ করা হয়।

এদিকে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারাহ সুদীপা ইউনুস, ফয়সাল আহম্মেদকে বিয়ে করার পর তারা বান্দরবানে এসে কোয়ান্টামের সাথে যুক্ত হন। সারাহ আইনজীবী হিসেবে জেলা বারের সদস্য হলেও মামলা পরিচালনা কম করতেন বলে জানা গেছে। তিনি একটি মানবাধিকার সংস্থার সাথে যুক্ত হন আর ফয়সাল নিজেকে কোয়ান্টামের সাথে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। তবে স্থানীয় অনেকেই আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই দম্পতির চলাফেরা ও আচরণ রহস্যময় ছিল। ফয়সাল স্ত্রী সারাহর কারণে নিজেকে বিএনপির একটি কেন্দ্রীয় নেতার আত্মীয় বলে পরিচয় দিতেন। স্বামী ফয়সালের বিরুদ্ধে বান্দরবানের সুয়ালসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •