মোঃ আকিব বিন জাকের, মহেশখালী :

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে নিয়মিত চলছে সামাজিক বনায়নের কাজ। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনকল্যাণে সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী মনোভাবের কারণে মহেশখালী ভরে উঠেছে সবুজের সমারোহে!

উল্লেখ্য, সামাজিক বানয়ন হলো স্থানীয় দরিদ্র জনগণকে উপকারভোগী হিসেবে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত বনায়ন কার্যক্রম, যার প্রত্যক্ষ সুফলভোগীও উপকারভোগী হয়ে থাকেন। বনায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা, বনজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা, লভ্যাংশ বন্টন ও পুনঃবনায়ন সব কাজেই তারা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। ভূমিহীন, দরিদ্র, বিধবা ও দুর্দশাগ্রস্থ গ্রামীণ জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করাই সামাজিক বনায়নের প্রধান লক্ষ্য। সামাজিক বনায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের স্বনির্ভর হতে সহায়তা করা এবং তাদের খাদ্য, পশুখাদ্য, জ্বালানী, আসবাবপত্র ও মূলধনের চাহিদা পূরণ করা। নার্সারি সৃজন, প্রান্তিক ও পতিত ভূমিতে বৃক্ষরোপণ করে বনজ সম্পদ সৃষ্টি, মরুময়তারোধ, ক্ষয়িষ্ণু বনাঞ্চল রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং সর্বোপরি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র নিরসনে সামাজিক বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বনভূমির ভারসাম্য রক্ষায় সেই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুফল’ প্রকল্পের সফল বনায়নে দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর পাহাড় যেন সবুজায়নে ভরে উঠেছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাধীন মহেশখালী রেঞ্জের শাপলাপুর, দিনেশপুর, মুদিরছড়া, কেরুনতলী ও কালারমারছড়া বিটে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প এর আওতায় ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থ বছরে মিশ্র প্রজাতির দ্রুত বর্ধনশীল বাগান, ধীর বর্ধনশীল বাগান, এনরিচমেন্ট বাগান, ষ্ট্যান্ড ইম্প্রুভমেন্ট বাগান, এএনআর বাগান, বেত বাগান ও বাঁশ বাগান সহ সাত ধরনের বাগান সৃজন করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পাহাড় সবুজাভ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ হ্রাস, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার উৎস হিসেবে বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কুড়াচ্ছেন মানুষের প্রশংসা।

মহেশখালীর ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় এই বনায়ন করা হয়েছে। এবং পাহাড়ী এলাকায় সফল বনায়নে সবুজায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •