নতুন বাহারছড়ার নুরুল আবছারের সংবাদ সম্মেলন

“মাকে ঢাল বানিয়ে ভাবি ও একটি অসাধু চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে”

প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০২১ ১০:২৭ , আপডেট: ১৮ জুলাই, ২০২১ ১০:৪৯

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজের মাকে ঢাল বানিয়ে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও অসাধু একটি চক্রের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নতুন বাহারছড়ার রেমিট্যান্স যোদ্ধা নুরুল আবছার। রোববার (১৮ জুলাই) সকালে তাঁর নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরুল আবছার জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের ৩ জুন জীবন—জীবিকার তাগিতে আমার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে  ধার করে প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে দুবাইতে যায়। সেখানে পরিবারের সুখ—শান্তির জন্য দীর্ঘ ১১ বছর ঘাম ঝরা পরিশ্রম করে দেশে আসি। এবং আমার ঘাম ঝরা অর্জিত সমস্ত অর্থ আমার পরিবারের পেছনে খরচ করি। আমি বিদেশ যাওয়ার ৬ মাস পর আমার বড় ভাই নুরুল আমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমার বড় ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কর্মহীন হয়ে তিনি বেকার হয়ে পড়েন। আমরা যৌথ বিধায় পরিবারের সব দায়—দায়িত্ব আমার কাধে এসে পড়ে। আমি বিদেশে থাকা অবস্থায়ও নির্দ্বিধায় পরিবারের যাবতীয় খরচ চালিয়ে যাই। এবং বড় ভাইয়ের যাবতীয় চিকিৎসা খরচ আমি চালিয়ে যাই, যা আমার আমার বন্ধু বান্ধব, আত্নীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সবাই জানে। পরিশেষে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর হঠাৎ আমার বড় ভাই নুরুল আমিন স্ত্রী ও ২টি সন্তান রেখে মারা যায়। আমার বাবা মরহুম নুরুল ইসলাম দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বাবারও যাবতীয় চিকিৎসা খরচ আমি একাই বহন করে যাই। বড় ভাইয়ের মৃত্যু ছয় মাস পর আমার বাবাও মারা যান। এতেও আমি ভেঙ্গে না পড়ে সংসারের চাকা সচল রাখি। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কোনদিন কিছুর অভাব বুঝতে দিইনি। কিন্তু এতো কিছু করার পর তাঁর পরিণামে মিলেছে লাঞ্চনা ও বঞ্চনা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানিয়েছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পারি যে আমি নাকি আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি। যা শুনে আমি রীতিমত অবাক হই। মূলতঃ আমার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী বিভিন্ন জন দিয়ে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি তার কথায় সাড়া দেইনি। এবং একটা পর্যায় গিয়ে ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি আমি অন্যত্র বিয়ে করে ফেলি। এরপর তার পরিবার ভাবিকে অন্যত্র বিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে খুরুস্কুল কুলিয়া পাড়ার সরদার এবং তাহার মা, ভাইসহ এসে স্বাক্ষীস্বরূপ তার আসবাবপত্রসহ সবকিছু নিয়ে আমার বাড়ি থেকে চলে যায়। এমন সময় চলে গেছে, যে সময় আমার স্ত্রী ছিল ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। যেটা ছিল অমানবিক। আমি সহ আমার আত্নীয় স্বজনের এত অনুরোধের পরও সে আমাদের কথায় কোন সাড়া দেয়নি। সে তার কথায় অটল ছিল। এবং দুটি ছোট ছোট বাচ্চা রেখে চলে যায়। যাওয়ার সময় আমরা তাকে বলি, এতো অনুরোধের পরও যখন চল যাচ্ছেন, এক বার গেলে আর দ্বিতীয় বার আমার বাড়িতে আসতে পারবেন না। এবং সেও বলে আর কোনদিন আমার বাড়িতে আসবে না এই বলে চলে যায়।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা নুরুল আবছার জানিয়েছেন, আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী বিয়ে করার জন্য চলে যাওয়ার ৭-৮ মাস পর আবারও বাড়িতে চলে আসে। তখন আমি কোন বাধা দিইনি। শুধু উনাকে জানাযই আপনি না আসার কথা ছিল। এরপরে তিনি গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মেয়র ও সমাজ কমিটিতে বিচার দেন। তখন আমি সমাজ কমিটি ও মেয়রকে বিষয়টি অবহিত করি। কিন্তু আমার স্ত্রীর সাথে মায়ের সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী মাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে কুমতলব দেয়। আমার মা অসুস্থ ও মনভোলা মানুষ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমার মাকে সমাজের কিছু ব্যক্তি, সমাজ কমিটি এবং আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ভুল বুঝিয়ে আমার কাছ থেকে দুরে রাখে। সমাজ কমিটিও একতরফা বিচার করতে থাকে, এবং আমি সমাজ কমিটির একতরফা বিচার মেনে না নেয়ায়, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমাজচ্যুত করে, ও মাকে তাড়িয়ে দিয়েছি বলে একের পর এক অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এখানে একটি দালাল চক্র উদ্দেশ্যমুলক আমার বড়ভাইয়ের স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে বাড়ি হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে, যা এখনো বিদ্যামান।

নুরুল আবছার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেছেন, বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমি অনেক কষ্ট করে বাবার জমিতে বাড়ি করেছি। কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর দাবি আমার বাবা নাকি মারা যাওয়ার আগে আমি এবং বড় ভাইয়ের সন্তানদের নামে সম্পত্তি দুইভাগে দানপত্র করে গেছেন। যা আদৌ আমি জানিনা। জমি আমার বাবার হলেও বাড়ি করেছি আমি। কিন্তু বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমার বাড়ির ভাগও চাচ্ছেন। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমি চাই আমার স্নেহময়ী মা এবং বড় ভাইয়ের ২টি সন্তান আমার সাথে আজীবন থাকুক। কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী যদি জমি দাবি করে তার সমপরিমাণ টাকা দিতে আমি রাজি আছে। তিনি যেন সেই টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কিনে বসবাস করে। নতুবা আমার বাড়ি করতে যতো টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকা ও আমার ভাগের জমির টাকা আমাকে দিয়ে দিলে আমি অন্যত্র চলে যাবো।

এ বিষয়ে তিনি ন্যায় বিচারের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •