বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২১ ০৮:৪৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। (ফাইল ছবি)

সিবিএন ডেস্ক:
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২০ বছরের সম্পর্কের ইতি টানল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই ভাগ হয়ে যাওয়া জমিয়ত এতদিন জোটেই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মাওলানা জিয়াউদ্দিন ও বাহাউদ্দিন যাকারিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ জোট ছাড়ার ঘোষণা দিল। যাওয়ার বেলায় জোটে মূল্যায়ন না পাওয়াসহ বিএনপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরলেন জমিয়ত নেতারা।

তবে জমিয়তের এই অংশটি বিএনপি জোট ছাড়লেও মনছুরুল হাসান রায়পুরী ও গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামের নেতৃত্বাধীন জমিয়তের আরেকটি অংশ এখনো বিএনপি জোটের সঙ্গেই রয়েছে। যদিও সেই অংশটির নিবন্ধন নেই। এছাড়া তাদের অবস্থানও নড়বড়ে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া। লিখিত বক্তব্যে অন্যান্য কারণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জোটের প্রধান দল বিএনপি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশেষ এক পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিবাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। এরই ধারাবহিকতায় ঐক্যবদ্ধভাবে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে, জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সম্প্রতি শরিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে মতামত না নিয়ে তিনটি আসনের উপনির্বাচন এককভাবে বর্জনের ঘোষণা করা, জোটের কোনো কার্যক্রম না থাকা, বিএনপি মহাসচিবের শরিয়া আইনে বিশ্বাসী না হওয়ার বক্তব্য দেয়া, দেশব্যাপী আলেম উলামাদের জেলজুলুমের প্রতিবাদে কার্যকর কোনো ভূমিকা না রাখা, জোটের শীর্ষ নেতা জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর ইন্তেকালের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং জানাজায় অংশগ্রহণ না করায় জমিয়তের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

বাহাউদ্দিন যাকারিয়া বলেন, ‘এই অবস্থায় জমিয়ত মনে করে ২০ দলীয় জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করাই জমিয়তের জন্য কল্যাণকর। আজ (বুধবার) থেকে জমিয়ত জোটের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় থাকবে না।’

এদিকে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে খবরটি শুনলাম। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না।’

বিএনপির বিষয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ, দাবি দাওয়া থাকতেই পারে। অনেক সমস্যার সমাধান আলোচনা করে নিষ্পত্তিও করা হয়েছে। এমন কিছু হলে সেটা বলার পথ সবসময় খোলা আছে।’

নির্বাচন কমিশনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নিবন্ধন নং ২৩। ২০০১ সালে সংগঠনটি ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গী হিসেবে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। অষ্টম জাতীয় সংসদে দলটির দুজন সংসদ সদস্য ছিলেন।

এর আগে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপি জোট ত্যাগ করে। এখন বিএনপি জোটে উল্লেখযোগ্য ইসলামি দলগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাফত মজলিস, জমিয়তের একটি খণ্ডিতাংশ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির একটি খণ্ডিতাংশ।

লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন যাকারিয়া বলেন, ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রাজনৈতিক দল। দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি, ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার ও স্বকীয়তা সংরক্ষণে তাদের ইতিহাস রয়েছে। দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে জমিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌম রক্ষা, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর নেজাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জমিয়ত নিয়োজিত। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জমিয়তের জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমণকে ঘিরে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া জমিয়ত নেতৃবৃন্দসহ সকল আলেমদের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।’

দলের বৈঠকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ ও সকল নাগরিককে দ্রুত সময়ের ভেতর টিকা ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয়।

এছাড়া দীর্ঘদিন যাবত মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে দাবি করে কওমি মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়।

এর বাইরেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে গত কয়েক বছরের মতো এবারও রহস্যজনকভাবে চামড়ার দরপতনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় জমিয়তের বৈঠকে। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে চামড়া শিল্পকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানান জমিয়ত নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা আব্দুল বছীর, সহকারী মহাসচিব মুফতি মাসুদুল করীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান, অর্থ সম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মুতীউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা বশির আহমদ, মুফতি নাছির উদ্দীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নাল আবেদীন, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফফার ছয়ঘরী প্রমুখ। -ঢাকাটাইমস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •