নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহরের নতুন বাহারছড়ায় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নিজের বয়োবৃদ্ধ মা ও বড় ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী এবং দুই ফুটফুটে সন্তানকে নির্মম নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিল পাষণ্ড পুত্র নুরুল আবছার। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ওই এলাকার মরহুম নুরুল ইসলামের বড় ছেলে নুুরুল আমিন ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে রেখে অকালে মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর মাত্র ৬ মাস পর পিতা নুরুল ইসলামও মারা যায়। তবে নুরুল ইসলাম মারা যাওয়ার আগে স্ত্রী মমতাজ বেগম, প্রয়াত পুত্র নুরুল আমিনের দুই শিশু সন্তান ও ছোট ছেলে নুরুল আবছারের নামে সমানভাগে সম্পত্তি দানপত্র লিখে দিয়ে যান। কিন্তু পিতা ও বড় ছেলে মারা যাওয়ার পর মা মমতাজ বেগমের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালায় ছোট পুত্র নুরুল আবছার বাক্কাইয়া। সম্পত্তি একাই ভোগ করতে নুরুল আবছার তাঁর বউ ও শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে আঁতাত করে বড় ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী ও এতিম দুই শিশু সন্তানকেও নিপীড়ন চালাতে থাকে। একপর্যায়ে নুরুল আবছার তাঁর বয়োবৃদ্ধ মা মমতাজ বেগম ও বড় ভাইয়ের বিধমা স্ত্রী এবং এতিম শিশুদের ঘর থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিষয়টি নুরুল আবছারের মা মমতাজ বেগম নতুন বাহারছড়া সমাজ কমিটিকে লিখিতভাবে অবহিত করে। এতে নতুন বাহারছড়া সমাজ কমিটি নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে নুরুল আবছারকে বহিষ্কার করে।

এ বিষয়ে পাষণ্ড নুরুল আবছারের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আদর যত্ন করে মানুষ করার প্রতিদান দিচ্ছে আমার নিজ সন্তান নুরুল আবছার। তাকে অনেক কষ্ট করে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। বিয়েও করায় অনেক টাকা খরচ করে। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যায় তাঁর আচার—আচরণ। তাঁর পিতা মৃত্যুর আগে আমার প্রয়াত বড় ছেলের স্ত্রী—সন্তান, আমিসহ সবার নামে সমানভাগে সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করে দানপত্র দিয়ে যায়। কিন্তু আমার স্বামী নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর স্ত্রী এবং শশুর বাড়ির লোকজনের প্ররোচরনায় সম্পত্তি একাই দখলে নিতে নুরুল আবছার আমাকে ও তাঁর বড় ভাই আমিনের বিধবা স্ত্রী—সন্তানদের নির্যাতন চালিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে আমরা নিরুপায় হয়ে পথে পথে ঘুরছি। তিনি ন্যায় বিচার পেতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সমাজ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •