এম.জিয়াবুল হক ,চকরিয়া:

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন হত্যা মামলার তদন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) নয়,থানা পুলিশের কাছে রাখতে চান বাদী। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার বাদী আমিরুজ্জামান অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের (সিআইডি) কেিালখিত আবেদন করেন। সেখানে তিনি পেকুয়া থানা পুলিশের তৎপরতায় ও তদন্তে সন্তুষ্ট বলেও উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, আসামিরা চিহ্নিত ডাকাত, হত্যা ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি। থানা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তভার থাকায় আসামিরা এলাকায় ঢোকার সfহস পাচ্ছে না। তাঁরা এলাকায় ঢুকতে পারলে বাদী ও তাঁর পুরো পরিবারকে মেরে ফেলবেন। সিআইডিতে তদন্তভার গেলে বাদী ও সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।

গত ২ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে মগনামার ফুলতলা স্টেশনে চিংড়ি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন ও তাঁর বন্ধু আলী আকবরকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। গুরতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জয়নাল মারা যান। এ ঘটনায় জয়নালের ছোটভাই আমিরুজ্জামান বাদি হয়ে ৩২জনকে আসামি করে পেকুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ মামলার সাতজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন। এরমধ্যে মাহমুদুল করিম নামের এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন আসামিরা হলেন আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী বাবুল (৫৫), মো. ইউনুছ (৫২), আবু ছৈয়দ (৩০), নেজাম উদ্দিন ছোটন (২৫), জিয়াউর রহমান (২৮), মোস্তাক মিয়া (৩০), মাহমুদুল করিম (৩০), সুলতান মোহাম্মদ রিপন (৩৩), আহমদ কবির লজ্জক (৪৪), সায়েদ খান শান্ত (৩৫), মকসুদ মিয়া (৩৫), আবুল হাশেম ভেন্ডিয়া (৩৫), শামসুল আলম (৩৮), আমির হোসেন ভুলু (৪০), পারভেজ মোশারফ (২০), মো. রাসেল (২২), জাহেদুল ইসলাম কালু (৩৭), মো. দুলাল প্রকাশ দেলোয়ার (৩০), আবু হানিফ (৩০), রেজাউল করিম (৩৩), আব্দুস সালাম (৩৮), নুর মোহাম্মদ (৪১), মনজুর আলম (২৭), নেছার (৩৫), মো. এহসান (৩৩), নজরুল ইসলাম (৩০), আব্দুল হালিম (২৭), মো. কায়েস (২৯), শাহ আলম (৪৫), মো. বাদশা (৪৫), আহমদ কবির প্রকাশ ফোঁড়া বদ (৫৫) ও মো. মুজিবুর রহমান (৩২)।

এসব আসামিদের মধ্যে মাহমুদুল করিম, আহমদ কবির লজ্জক, আমির হোসেন, মো. রাসেল, পারভেজ মোশারফ, মো. দুলাল ও আব্দুস সালাম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অন্য আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বাদি আমিরুজ্জামান অভিযোগ, আসামির পরিবারের সদস্যরা মামলা সিআইডিতে নিচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে স্বাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। মামলাটি জেলা পুলিশের বাইরে অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা তদন্তের দায়িত্ব পেলে আসামিরা এলাকায় জড়ো হয়ে আমাদের পুরো পরিবারকে মেরে ফেলবে। মামলা সিআইডিতে যাচ্ছে এ খবরে আমি ভীতসন্ত্রস্ত।

মামলার বাদি আমিরুজ্জামান বলেন, পেকুয়া থানা পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় সাতজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পলাতক আসামিরা হুমকি দিয়ে বলছে, মামলাটি পেকুয়া থানা থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) নিয়ে গিয়ে তাঁরা এলাকায় ঢুকে আমাদের পরিবার সদস্যদের দেখে নিবে। এখন থানা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তবার থাকায় আসামিরা এলাকায় অবস্থানের সুযোগ ও সাহস পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এক বছরের মধ্যে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালীর নেজাম উদ্দিন হত্যা মামলা, বুধামাঝিরঘোনা এলাকার সেলিনা বেগম হত্যা মামলা ও টৈটংয়ের বটতলী এলাকার মো. মিন্টু হত্যা মামলার একটিও সিআইডি তদন্তের জন্য নিয়ে যায়নি। অথচ আমি বাদি হিসেবে কোনো আবেদন না করলেও আসামিদের তদবিরে জয়নাল হত্যা মামলা সিআইডি নিয়ে যাচ্ছে।

তবে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মামলা থানা পুলিশের হাতেই আছে। সিআইডি মামলা নিতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মহোদয়ের কার্যালয় থেকে চিঠি আসার কথা। এখনও এ রকম কোনো চিঠি আমি পাইনি।’

তবে সিআইডি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, জয়নাল হত্যার মামলাটি সিআইডির তালিকাভুক্ত। এ মামলার তদন্ত সিআইডি করতে চায়।মামলার নথিপত্র সিআইডিতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।

সিআইডিতে মামলা হস্তান্তর না করার বিষয়ে মামলার বাদীর আবেদন প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এটা ওনার ব্যাপার। আমরা (সিআইডি) মামলার তদন্ত করে আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা গুরুত্ব পাবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •