অনলাইন ডেস্ক: কোপা আমেরিকায় আগের ম্যাচগুলোতে ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পাননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ডি মারিয়া।

কোচ স্কলানির তাকে শেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ফাইনালে পিএসজির এই তারকা ফরায়ার্ডকে শুরুতেই কাজে লাগান কোচ।

তার ফলও মিলে। যেনতেন অস্ত্র নয় রীতিমতো ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে মারাকানায় ব্রাজিলকে ধসিয়ে দিয়েছেন ‘বুড়ো’ ডি মারিয়া।

ম্যাচে ২২ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে ডি মারিয়ার উদ্দেশে উড়ো পাস দেন দি পল। দৌড়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্রাজিল গোলরক্ষক এদারসনের মাথার উপর দিয়ে তা জালে জড়িয়ে দেন পিএসজি তারকা।

ওই একমাত্র গোলেই জয় পেয়ে শিরোপায় চুমু খেয়েছে লিওনেল মেসি।

প্রশ্ন উঠেছে, ডি মারিয়ার গোলটি কি অফসাইড নিয়মে বাতিল হওয়ার যোগ্য ছিল না? যে নিয়মে ব্রাজিলের রিচার্লিসনের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। অনেকে সরলরেখা এঁকে দেখিয়ে দিচ্ছেন ডি মারিয়া অফসাইডে ছিলেন।

গোলের আগে রদ্রিগো ডি পলের লম্বা পাস ধরে ডি মারিয়া যখন এগিয়ে যান তখন এক পলকে অনেকের কাছে মনে হয়েছে ওটা অফসাইড।

এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা জানাচ্ছেন, হ্যা, ডি মারিয়া বল রিসিভ করার মুহূর্তে অফসাইড পজিশনেই ছিলেন ডি মারিয়া। কিন্তু এতে গোল বাতিলের কিছু ঘটেনি।

এমন জবাবে ভ্রু কুচঁকাবেন ব্রাজিল সমর্থকরা। একইরকম ঘটনায় দুই দলের জন্য দুই নিয়ম কেন?

এর ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডি মারিয়া অফসাইড থাকলেও আর্জেন্টিনার গোলটি আইনসিদ্ধ। এর কারণ খুবই সোজা।

ডি মারিয়া রিসিভ করার আগে বল ব্রাজিলের ১৬ নম্বর জার্সি পরা ডিফেন্ডার রেনান লোদির পা ছুঁয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই এটা আর অফসাইড নয়।

ফুটবলে এমন উদাহরণ অনেক আছে। এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও এমন ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দশম মিনিটেই গোল করেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড লুকাকু। সেই গোল নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।

মাঠে রাশিয়ার খেলোয়াড়রা দাবি জানান, গোলটি করার সময়ে অফসাইডে ছিলেন লুকাকু। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নেন রেফারি। দেখা যায়, লুকাকু অফসাইডেই ছিলেন। তার সামনেই ছিলেন রাশিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেই সেমেনভ।

দ্রিস মের্টেনস যে ক্রসটি লুকাকুর উদ্দেশে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিপদমুক্ত করতে গিয়ে রাশিয়ার সেমেনভের পায়ে লাগে ও একটু দূরে ছিটকে যায়।

দৌড়ে গিয়ে সেখান থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বল জালে পাঠান লুকাকু। অর্থাৎ লুকাকু অফসাইডে থাকলেও বল সেমেনভের পায়ের ছোঁয়াতে বদলে দিয়েছে পরিস্থিতি। নিয়ম অনুযায়ী যে দলের বিগোল বাতিল করেননি রেফারি।

ফিফার নিয়মও তাই বলছে। যে দলের বিপক্ষে আক্রমণ হচ্ছে সেই দলের কোনো খেলোয়াড় যদি বলটি খেলেন (তা বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য বা বিপদমুক্ত করার জন্যই হোক), তাহলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় আর অফসাইড হবেন না।

সে অর্থে অফসাইডে থাকলেও ডি মারিয়ার গোলটি আইনসিদ্ধ।

ভিডিওতে দেখুন –

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •