সিবিএন ডেস্ক
ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোল পেলো ইংল্যান্ড। তাতে ইতালির বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। এই ব্যবধান অবশ্য বিরতির পর আর থাকেনি। ইতালি ম্যাচে ফিরতে তখন মরিয়া। গোলও পেলো দ্বিতীয়ার্ধে। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনও দলই আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ১-১ গোলে থাকা ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ম্যাচের ফল অমীমাংসিত। শেষ পর্যন্ত শাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইতালি দ্বিতীয়বারের মতো ইউরো ট্রফি জিতলো।

টাইব্রেকারে হিরো দলের গোলকিপার দোনারুম্মা। ইংল্যান্ডের পাঁচটি শটের দুটি রুখে দিয়ে দলকে ট্রফি জিততে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে কেইন ও মেগেুয়েরে লক্ষ্যভেদ করেছেন। রাশফোর্ডের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সান্চো ও সাকোর শট গোলকিপার রুখে দেন। বিপরীতে ইতালির বেরার্দি, বেনোচ্চি ও বার্নাডোস্কি গোল করেছেন। বেলোত্তি ও জর্জিনহোর শট ইংলিশ গোলকিপার পিকফোর্ড রুখে দিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি।

সেই যে ১৯৬৮ সালে প্রথম ইউরোর ট্রফি জিতেছে ইতালি। এরপর দুইবার ট্রফি ছোঁয়া দূরত্ব থেকে জেতা হয়নি। রানার্সআপ হয়ে থাকতে হয়েছে। এবার বহু বছর পর শিরোপা খরা ঘুচলো আজ্জুরিদের। রবার্তো মানচিনির অধীনে দল যে বদলে গেছে, তারই প্রমান মিললো ফাইনাল জয়ের মাধ্যমে।

অন্য দিকে ১৯৬৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর কোনও ট্রফি জয়ের স্বাদ নিতে পারেনি। তাদের একটি ট্রফির জন্য অপেক্ষা বহু বছরের। ওয়েম্বলিতে এসে ইউরোতে প্রথম ফাইনাল খেলতে নেমে হতাশই হতে হয়েছে তাদের।

এর আগে উৎসবের মেজাজে সেজেছিল লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আগে সমাপনি অনুষ্ঠানও হয়েছে। মাঠেই ট্রফি ঘিরে নেচে-গেয়ে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা ছিল দেখার মতোই।

ইংল্যান্ড দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়। কোচ সাউথগেট ট্রিপিয়েরকে একাদশে ফিরিয়েছেন। সাকার জায়গা হয়েছে সাইড বেঞ্চে। ৩-৪-২-১ ছঁকে নেমে ইউরোর প্রথম ফাইনাল খেলতে নেমে গোল পেয়েছে। বিপরীতে ১৯৬৮ চ্যাম্পিয়ন ইতালি আগের একাদশেই ভরসা রেখে খেলেছে। ৪-৩-৩ ছঁকে বল দখলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু গোল শোধের জন্য মানচিনির দল চেষ্টা করেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।

ম্যাচ ঘড়ির ২ মিনিটে ইংল্যান্ড প্রথম গোল করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের চমকে দেয়। ট্রিপিয়েরের ক্রসে বক্সে ঢুকে লুক শ বা পায়ের জোরালো ভলিতে গোলকিপার দোনারুম্মাকে পরাস্ত করেন। বল পোস্ট ঘেঁষে জাল কাঁপায়। ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে এটাই দ্রুত সময়ে গোল হলো। এর আগে স্পেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ম্যাচে প্রথম গোল হয়েছিল, ৫ মিনিটে।

হঠাৎ এমন গোলে পিছিয়ে পড়ে ইতালি শোধ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্বাগতিকদের গোলকিপার পিকফোর্ডকে বড় পরীক্ষায় সেভাবে ফেলতে পারেনি। ৮ মিনিটে ইনসিনিয়ের ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে চিয়েসার শট দূরের পোস্ট দিয়ে গেলে হতাশই হতে হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তাদের আরও একটি প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের রক্ষণে বাধা পেলে আর গোল পাওয়া হয়নি। প্রথমার্ধে পিছিয়েই থাকতে হয় আজ্জুরিদের।

ড্রেসিংরুম থেকে ফিরে এসে ইংল্যান্ডকে প্রায় কোনঠাসা করে ফেলে ইতালি। একের পর এক আক্রমণ করে তটস্থ রেখেছে। গোল শোধ দেওয়া তাদের সময়ের ব্যাপার ছিল। ইনসিনিয়ে তো দুটো সুযোগ হারান। ৫০ মিনিটে নেওয়া ফ্রি-কিকটি ক্রস বারের বাইরে দিয়ে যায়। ৭ মিনিট পর নাপোলির এই ফরোয়ার্ডের শট গোলপিকার পিকফোর্ড প্রতিহত করেন। ৬২ মিনিটে চিয়েসার শট গোলকিপার ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন।

৬৭ মিনিটে অবশ্য ইংল্যান্ডের সব প্রতিরোধ ভেঙে যায়। ইনসিনিয়ের কর্নারে ভেরাত্তির হেড সাইড বারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে পোস্টের সামনে থাকা লিওনার্দো বোনুচ্চি লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি। গোলকিপার পিকফোর্ড চেষ্টা করেও দলকে গোল খাওয়া থেকে রুখতে পারেননি।

৭৩ মিনিটে এমারসনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। এই অর্ধের শেষ দিকে এসে ইংল্যান্ড পাল্টা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সফল হতে পারেনি। অধিনায়ক হ্যারি কেইন ছিলেন অনেকটাই নিজের ছায়া হয়েছে। রহিম স্টার্লিং একাধিকবার বক্সে ঢুকে কিছু একটা করার চেষ্টা করেছেন। তবে তাকে হতাশ করেছেন ইতালির ডিফেন্ডাররা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •