অ্যাড. মোঃ আনোয়ারুল হাকিম ( আরাফাত)

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সাথে তালমিলিয়ে সকলের সাথে গ্রহনযোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত লাভ করতে মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করতে হয়। এসব আচরণের প্রতিফলন দেখাতে নিরন্তর ছুটে চলতে হয় এক জায়গা হতে অন্য জায়গায়। তাই আলোচনায় আসে চলাফেরার বিষয়। মানুষ তাঁর নিত্য প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে ঘর হতে অফিস আদালত,বাজার সহ অন্যান্য কাজে বের হবে এটাই স্বাভাবিক তবে কতিপয় ক্ষেত্রে মানুষের চলাফেরার উপর সংবিধান বর্ণিত বিধি নিষেধ সাপেক্ষে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা যায়। জনগণের উচিত আইন মেনে নাগরিক অধিকার ভোগ করা তেমনি রয়েছে জনগণের প্রতি সরকারের কিছু দায়বদ্ধতা। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে সরকার সময়ে সময়ে জনগণের চলাচলের উপর বিধি নিষেধ জারি করে কিছু নির্দেশনা জারী করে আসছেন যা অমান্য করলে সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা ও ক্ষমতা প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট এর মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তি পেতে হয়।
সম্প্রতি করোনা প্রতিরোধ জাতীয় করোনা প্রতিরোধ কমিটি করোনা দমনে কারফিউ জারির সুপারিশ করেছেন মর্মে সংবাদমাধ্যমে জানা যায়। এই বিষয়ে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক আইন কি বলে।

কারফিউ কী:
কারফিউ হল জেলা ম্যাজিস্ট্যেট (ডেপুটি কমিশনার) বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার কর্তৃক ঘোষিত সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে একটি নির্বাহী আদেশ। যে আদেশে লিপিবদ্ধ থাকবে এই আদেশ বলবৎ থাকাবস্থায় জনগণ কি কি কাজ করতে বাসা থেকে বের হতে পারবেন আর কি কি কাজ করতে পারবেন না। কবে বাসা থেকে বের হতে পারবেন, কবে বের হতে পারবেন না ইত্যাদি। সেই সাথে আরোও বলা থাকবে এই আদেশ কতদিন বহাল থাকবে এবং কোন কোন এলাকায় এই আদেশ কার্যকর হবে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। জেলা ম্যাজিস্ট্র্যাট বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সালের ২৪ ধারা মতে এই আদেশ জারি করতে পারেন।
যে কেউ এই আদেশ অমান্য করলে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। এই অপরাধের বিচার হবে বিশেষ ট্রাইবুনালে যার বিচারক হবেন দায়রা জজ।অভিযুক্ত হলে আপিল হবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে।
এখানে উল্লেখ্য যে কারফিউ ও লকডাউন এর মধ্যে আইনগত তেমন কোন পার্থক্য নেই কেবল অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে। দু’টি বিধান ২ আইনে রয়েছে তবে জনগনের নিকট লক ডাউন টা নতুন হলেও কারফিউর জারীর পরবর্তী ফলাফল অনেক পুরাতন বিষয়।

কারফিউ জারীর সময় সকলে আইন মেনে চলব। ঘরে বসে করোনা সংক্রমণ হতে নিজে ও পরিবার কে নিরাপদ রাখব। এতে নিজ এলাকা,উপজেলা, জেলা এবং দেশ নিরাপদ থাকবে। নিজে সচেতন হউন এবং অন্যকে সচেতন করুন।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী আইন বিভাগ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । বর্তমানে: আইন কর্মকর্তা ,অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •