অনলাইন ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন মাহমুদউল্লাহ। হারারে টেস্টের পঞ্চম দিন মাঠে নামার আগে গার্ড অফ অনার দিয়েছেন তাঁরসতীর্থরা। টেলিভিশন সম্প্রচারেও মাহমুদউল্লাহর অবসরের কথা নিশ্চিত করেছেন ধারাভাষ্যকাররা।

হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনই অবসর নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল তাঁর। তবে তখন বিসিবি বা মাহমুদউল্লাহ, কারও পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি । প্রথম আলোকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছিলেন, ‘আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু বলেননি। তবে একজন ফোন করে জানিয়েছে, এই টেস্টের পর আর সে (মাহমুদউল্লাহ) টেস্ট খেলতে চায় না। ড্রেসিংরুমে নাকি সবাইকে সে এটা বলেছে। কিন্তু আমার কাছে এটা খুবই অস্বাভাবিক লেগেছে। খেলা তো এখনো শেষ হয়নি!’

টেস্ট খেলার ব্যাপারে মাহমুদউল্লাহ লিখিত দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি, ‘আমরা তো এবার ওদের সবার কাছ থেকেই লিখিত নিয়েছি ভবিষ্যতে তারা কে কোন সংস্করণে খেলতে চায়। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার চার-পাঁচ দিন আগে এটা নেওয়া হয়েছে। রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) লিখেছে সে তিন ফরম্যাটেই খেলতে চায়। টেস্টের ক্ষেত্রে লিখেছে, সুযোগ পেলে আমি খেলতে চাই। সে জন্যই তাকে টেস্টে নেওয়া হলো।’

হারারে টেস্টে সেঞ্চুরির পর ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের মাহমুদউল্লাহ নাকি বলেছিলেন, তিনি যে টেস্ট ক্রিকেটটা খেলতে পারেন, এটাই নাকি দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখন আর তিনি টেস্ট খেলতে চান না।

এ কথা শুনে দলের সবাই খুব অবাক হয়ে যায়। আসলে কেউই জানত না তিনি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম টেস্ট দলে ফিরেছিলেন তিনি। ফেরার ম্যাচে হারারেতে করেছেন অপরাজিত ১৫০। দলকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল তাঁর সেই ইনিংস।

৩৫ বছর বয়সী মাহমুদউল্লাহর সিদ্ধান্তে থেমে গেল ১২ বছরের পথচলা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টোনে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর।

এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ৫০ তম টেস্টও। ক্যারিয়ারে ৩৩.৪৯ গড়ে তিনি করেছেন ২ হাজার ৯১৪ রান। এ টেস্টের সেঞ্চুরিটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ৫ম। বোলিংয়ে এখন পর্যন্ত ৪৩ উইকেটও আছে মাহমুদউল্লাহর।

হারারে টেস্টের তৃতীয় ইনিংস শেষে বাংলাদেশে তাঁর চেয়ে টেস্টে বেশি রান আছে পাঁচজনের- তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও হাবিবুল বাশারের। তাঁর চেয়ে বেশি টেস্টও খেলেছেন পাঁচজন- তামিম, মুশফিক, সাকিব, হাবিবুলের সঙ্গে মোহাম্মদ আশরাফুল।

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, তবে এরপর বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়েছিলেন এ সংস্করণ থেকে। জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুতেও টেস্ট স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের চোটের শঙ্কায় পরে যুক্ত করা হয়েছিল তাঁকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •