সিবিএন ডেস্ক:
মাদ্রাসার উচ্চশিক্ষা (কামিল) স্তরে বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি বেতন-ভাতার অংশ দেওয়া হলেও বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষকরা তা পান না। এ বৈষম্য দূর করে দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছে দেড় বছর বেতন-ভাতা না পাওয়া শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত দুটি সংগঠন।

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘১৯৯২ সাল থেকে ৩১৫টি উচ্চশিক্ষা চালু থাকা বেসরকারি কলেজে নামমাত্র বেতনে সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক কর্মরত। প্রায় ১০ বছর ধরে আমরা এমপিওর দাবি করছি। এসব কলেজের ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত। মাদ্রাসার কমিল স্তরের শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতার অংশ পান। অথচ আমরা বঞ্চিত ২৯ বছর ধরে।’

বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন মন্ডল বলেন, ‘২৯ বছর কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও বেতন-ভাতা দেয়নি। নামমাত্র কিছু সম্মানি দিয়েছে শিক্ষকদের। করোনার সময় সেটাও বন্ধ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষক হয়েও বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসার কামিল স্তরের শিক্ষকরা কোনও দাবি ছাড়াই জনবল কাঠোমোতে স্থান পেয়েছেন। অথচ আমরা আন্দোলন করেও বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। টানা ১০ বছর আন্দোলন করছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমলেই নিচ্ছে না। অথচ একই মন্ত্রণালয় চালাচ্ছে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা।’

গত ১৩ জুন অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের একটি টিম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গাজীপুরে সাক্ষাত করলে ওই দিনই কলেজগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়- প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা না দিলে অধিভুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিক্ষকরা বলছেন, ‘অধিভুক্তি বাতিল করলে আমাদের চাকরি থাকবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোতে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের পদ নেই। এমন সিদ্ধান্তের ফলে বেতন না পাওয়া শিক্ষকরা চাকরি হারানোর আতঙ্কে থাকবেন। কারণ কলেজগুলোর উচ্চশিক্ষা স্তরের অধিভুক্তি না থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি স্তরের শিক্ষকরা তো এমপিওভুক্ত।

শিক্ষকরা আরও জানান, করোনার আগে কিছু কলেজ সামান্য কিছু টাকা শিক্ষকদের দিলেও করোনার সময় কোনও বেতন-ভাতা দিচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ওই সময়ই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, যেসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা নেই সেগুলোর অনার্স-মাস্টার্স স্তর উঠিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে কলেজগুলোতে বিভিন্ন শর্টকোর্স চালু হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জনবল কাঠামো অনুযায়ী ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত পরিচালিত এমপিওভুক্ত কলেজগুলোকে ১৯৯৩ সালে অনার্স-মাস্টার্সের অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের মূল বেতন দেওয়ার শর্তে অনার্স-মাস্টার্সের অনুমোদন পায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এই পর্যায়ে কলেজগুলোর জনবল কাঠামোতে স্থান পায় না অনার্স ও মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের পদ। ফলে এমপিওভুক্ত হওয়া থেকেও বঞ্চিত হন তারা।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার কামিল স্তর জনবল কাঠামোতে রয়েছে শুরু থেকেই। যার কারণে এ স্তরের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতার অংশ পান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •