আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেডের সীমানা বিরোধ নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার পরিস্থিতি। উপজেলার উত্তর বন্দর গ্রামের কবরস্থান সংলগ্ন মাদ্রাসা মেরামত কাজে কেইপিজেড কর্তৃক বাধা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে গত সোমবার কেইপিজেডের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উত্তর বন্দর গাউছিয়া হাশেমীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহমদ হোসেনসহ শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে শিল্প ও কর্ণফুলী থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন করেন আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ। এ সময় কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ, কেইপিজেডের এস্টেট অফিসার এডভোকেট মোজাম্মেল হক,স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার,মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহমদ হোসেন ও উত্তর বন্দর সততা সংসদের সভাপতি এস এম সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইউএনও শেখ জোবায়ের আহমেদকে এলাকার দুইশ বছরের পুরোনো কবরস্থান ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার নানা দিকসহ বিভিন্ন সময়ে কেইপিজেড কর্তৃক অত্যাচারের কথা জানান স্থানীয়রা। অপরদিকে কেইপিজেডের এস্টেট অফিসার এডভোকেট মোজাম্মেল হক বিরোধপূর্ণ জায়গা তাদের বলে দাবি করেন। পরে দুই পক্ষের দাবি দাওয়া শোনার পর আগামী ৭ দিনের মধ্যে দুই পক্ষকে দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে বলা হয়। একপর্যায়ে অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গায় কেইপিজেডের পানি চলাচলের জন্য ড্রেন নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউএনও।
স্থানীয়রা জানান,১৯৭৬ সালে মরহুম নুর হোসেন উত্তর বন্দর শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন ২৪ শতক জায়গা আল আমিন ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামে দানপত্র করেন। ২০১৩ সালে ওই মাদ্রাসাটি উত্তর বন্দর গাউছিয়া হাশেমীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা নামে পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসা সংলগ্ন রয়েছে দুইশ বছরের পুরোনো এলাকাবাসীর একটি কবরস্থান। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকেই ওই কবরস্থানে লাশ দাফন করতে গেলে বা মাদ্রাসার মেরামত কাজ করলে বাধা সৃষ্টি করে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে কেইপিজেড নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ গত সোমবার মাদ্রাসার মেরামত কাজ করতে গেলে কেইপিজেডের নিরাপত্তা বাহিনী এসে ভাংচুর চালায়। এ নিয়ে কেইপিজেডের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। তবে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •