হোবাইব সজীব, মহেশখালী
জলদস্যুতা থেকে আলোর পথে ফেরার পর একরামকে কেন, কারা হত্যা করেছে তার কারণ জানতে এলাকা পরিদর্শনে যান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান। সেইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নিহত একরাম মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তরনলবিলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দু ছাত্তারের ছেলে।

সোমবার (৫ জুলাই) বিকাল ৫ টার দিকে তদন্তের অংশ হিসেবে কালারমারছড়াস্থ নিহতের বাড়ীতে যান পুলিশ সুপার।

তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতের দ্রুত খুঁজে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এ সময় মহেশখালী-কুতুবদিয়া সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হাইসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,স্থানিয় চেয়ারম্যান তারেক শরীফ পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
ওই দিন বিকালের দিকে কক্সবাজার এসপি উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা বড়ুয়া পাড়া নিহতের বাড়ীতে যান। এর পর কালারমারছড়া – মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক ও শাপলাপুর সড়কের ডাকাতি কবলিত স্থান পরির্দশন করেন তিনি।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ‘ক্লু’ খুঁজে বের করতে একরামের স্ত্রী মুন্নি আকতার, মামা স্থানিয় মেম্বার লিয়াকত আলী ও আশপাশের লোকজনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সহযোগিতার আশ্বস্থ করে শান্তনা দেন এসপি নিহতের পরিবারকে।
গত ৩০ জুন (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টার সময় মাতারবাড়ির উত্তর রাজঘাটে বেড়াতে ওয়াপদা পাড়া এলাকায় গেলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা ডাকাত দল একরামের উপর হামলা করে কুপিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যা করে কোহেলিয়া নদীর পাড়ে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসীরা লাশ দেখতে পেলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় নিহতের মামা মণিরুল আলম বাদী হয়ে ধৃত কবির ডাকাতকে এক নং ও শাকের উল্লাহ কে দুই নং আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এতে আরো অজ্ঞাত লোক রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছে পুলিশ সুপার।
উল্লেখ , নিহত যুবক একরাম গত ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর কালারমারছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের হাতে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফেরার প্রত্যয়ে একযোগে তিনিসহ ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •