আলমগীর মানিক,রাঙামাটি:

চলমান লকডাউনের নিস্তব্ধতাময় সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বড় বড় পাহাড় কেটে সাবাড় করছে একশ্রেণীর প্রভাবশালী চক্র। গত কয়েকদিনে সদর উপজেলাধীন সাপছড়ি ইউনিয়নের বৌধিপুর এলাকাসহ কুতুকছড়িস্থ দক্ষিণ কুতুকছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় লকডাউন চলাকালীন সময়ে স্ক্যাবেটার লাগিয়ে বড় বড় পাহাড়গুলোকে নিমিষেই সমতল বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। জানাগেছে, চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফকে গাড়ি প্রতি দু’শো টাকা প্রদান করে বিভিন্ন স্থানে এই পাহাড় কাটা মাটিগুলো চড়া দামে বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে রোববার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেছেন রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা। এসময় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতে-নাতেই পাহাড়কাটা মাটি বহনকাারি চারটি ড্রাম ট্রাকসহ(চট্টমেট্টো-শ ১১-১৪২৬, চট্টমেট্টো-শ ১১-১৪২৭, ঢাকা মেট্টো-শ ১৪-০২৯৭, চট্টমেট্টো-ট ১১-৩৫৬৯) তিনজনকে আটক করেন। এসময় এক চালক পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে তিনটি ট্রাক জব্দ করে আটককৃত (সোহাগ,সাগর,নোমান) এই তিনজনকে কোতয়ালী থানায় নিয়ে আসাহয়। সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে করোনাকালীন নিষিদ্ধ সময়ে আইন অমান্য করে মাটি কাটার অপরাধে ১০০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসময় জব্দকৃত তিনটি ড্রামট্রাককে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোতয়ালী থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এদিকে চালক পালিয়ে যাওয়ায় একটি ট্রাক ও একটি স্ক্যাবেটার গাড়ি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় রাখার নির্দেশনা দেন ইউএনও। এসব গাড়িগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মানিকছড়ি চেকপোষ্ট যাতে অতিক্রম করতে নাপারে সেই লক্ষ্যে চেকপোষ্টে কর্তব্যরতদের মৌখিকভাবে নজর রাখতে বলে দেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।

এদিকে রোববার সন্ধ্যারাতে ঘটনাস্থল বোধিপুর গিয়ে দেখা গেছে মোবাইল কোর্ট কর্তৃপক্ষ চলে আসার পর আবারো সেখানে স্ক্যাবেটার লাগিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এছাড়াও দক্ষিণ কুতুকছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরেই আরেকটি স্ক্যাবেটর লোক চক্ষুর অন্তরালে সরিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত কয়েকদিন ধরেই দিনে-দুপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সামনে রাস্তার ধারের বিশালাকার পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি চক্র। জনৈক নাজিম ও সরু নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে এই অবৈধ যজ্ঞ পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এই ধরনের পাহাড় কেটে সাবাড় করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে কুতুকছড়িস্থ ইউপিডিএফ(আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন)এর একটি সশস্ত্র দল। প্রতি গাড়ি থেকে দুইশো টাকা করে এই সংগঠনের নামে আদায় করা হলেও পাহাড়ের প্রকৃত মালিককে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ টাকা। প্রতি গাড়ি মাটি বিক্রি করা হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায়। বাকি টাকাগুলো নিজেরা ভাগভাটোয়ারা করে নেয় বলে জানাগেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •