সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও
মাত্র ১৩ কড়া রিজার্ভ দখলীয় বসতভিটার দলিল জালিয়াতি করে পাকা ঘর নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীরা পুরাতন বসতবাড়ির ভিতরে পাকা ঘর নির্মানের কাজ চালিয়ে গেলেও স্থানীয় বনবিভাগ নিরব রয়েছে।

এমনতর ঘটনাটি ঘটেছে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেদাকচ্ছপিয়া বনবিভাগের বাককুম পাড়া গ্রামে।

এমনকি একটি মহল দখলদারকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন বসতবাড়ির মালিক মোঃ সোলাইমান(৬২)। তিনি জমিটি দখলমুক্ত করতে স্থানীয় পরিষদ ও চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও দখলদারদের নানা হুমকিতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের বাক্কুমপাড়ার মৃত আবদুচ ছত্তারের পুত্র মোঃ সোলাইমানের অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩ দশক ধরে তারা তিন ভাই বর্নিত এলাকায় খাস দখলীয় ৩৯ কড়া জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। তাদের মধ্যে ১৩ কড়া করে বসতভিটা ভাগজাতনামা করা হয়। এসময় তারপ্রাপ্ত ১৩ কড়া বসতভিটা অপর ভাই মোঃ কালুর জিম্মায় রেখে তিনি একই এলাকায় জমি কিনে সপরিবারে বসবাস শুরু করেন।

কিছুদিন পুর্বে তার ভাই মোঃ কালু ও বদি আলম মৃত্যুবরন করেন। ভাইদের মৃত্যুর পর বসতভিটা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে মোঃ কালুর পরিবার।

একপর্যায়ে তারা নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জোরপুর্বক বসতভিটা দখল করে পুরাতন ঘরের ভিতরে পাকা ঘর নির্মান কাজ শুরু করেন।

বৃদ্ধ মোঃ সোলাইমান জানান, আমার ভাতিজারা মিথ্যা দলিল সৃজন করে আমার টিপসহি জালিয়াতির মাধ্যমে আমাকে হয়রানি করছে।

আমি নিরক্ষর, আমি কোন সময় দলিলে টিপসহি দিইনি। টিপসহিতে নেই বং এর পরিচয়। এমনকি দলিলে স্থানীয় মোজাফফর, মতলি, মুজিবকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। তাদের জবানবন্দি নেয়া হলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।

তিনি আরো বলেন, বিগত ১২ জুন স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বসতভিটার দখল বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও মোঃ কালুর পুত্ররা বসতভিটা দিবে না, কৌশলে অন্যত্র দখল বিক্রি করে দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে আমার পুত্রদের জানে মেরে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে প্রকাশ্যে হাঁকাবকা করছেন।

এ ঘটনায় মোঃ সোলাইমান বাদী হয়ে গত ১২ জুন চকরিয়া থানায় ৪ জনকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে বর্নিত এলাকার মোঃ কালুর পুত্র মোঃ রফিক (৩০),আবদুল হাকিম (৪৫) শফিকুল ইসলাম (২৬) ও আবদুল হাকিমের স্ত্রী আরফা বেগম(৩৫) কে আসামী করা হয়েছে।

স্খানীয়দের মতে, বসতভিটার মালিকানা ফিরে পেতে মোঃ সোলাইমান প্রশাসনের ধারে ধারে ঘুরলেও অভিযুক্তরা পুর্বে থেকে একটি জাল দলিল তৈরি করে জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন।

এসব কাগজপত্র প্রকাশ্যে আনা হলে জানা যাবে মোঃ সোলাইমানের টিপসই জাল করার চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

পাশাপাশি প্রকৃত মালিক মোঃ সোলাইমানের কাছ থেকে কিনেছেন বলে যে জাল দলিল করেছেন। এতে তার টিপসই যে জাল করেছেন তা ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে প্রমাণিত হবে বলে জানায় এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •