মোঃ ফারুক,পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব গোঁয়াখালী গ্রামে ১৯৪৮ সালের ৩০ শে জুন কামাল হোসেন নামে এক শিশু জন্ম নেন। পিতা মৃত হাজী কবির আহমদ (সও) ও মা গোলতাজ বেগমের ১ম সন্তান হওয়ায় খুব আদর স্নেহে বেড়ে উঠেন তিনি। তিঁনি ছাড়াও সওদাগর পরিবারে আরো ৯ মেয়ে ২ ছেলে জন্ম নেন।

পিতা মাতার সৎ আদর্শ নিয়ে বেড়ে উঠা কামাল হোছেন ১৯৭২ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার আগে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৯৭৩ইং থেকে ১৯৯৮ইং পর্যন্ত পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। গ্রাম আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে বিএনপি ও আ’লীগ সরকার আমলে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

সেই যুবক বয়সের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান কামাল হোছেন গত ৩০ জুন ৭৪ বছরে পা দিয়েছেন। বাংলাদেশ আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে বর্তমান বৃদ্ধ বয়সেও এখনো জনগণের কাছে সমান জনপ্রিয়। তার জন্মদিনে পেকুয়াবাসীরা ভালবাসা ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করে ফেসবুকে দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

শিক্ষাজীবনঃ-

গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করে ১৯৬৩ সনে পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি, ১৯৬৫ সনে চট্টগ্রাম সরকারি বানিজ্য কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উক্ত কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ১৯৮১ সনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। একই সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিয়ে এডভোকেটশীপ সনদ লাভ করে সুনাম অজর্নকারী আইনজীবী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবনঃ-

শিক্ষাজীবন চলাকালীন অবস্থায় ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত পেকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া থানা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত বৃহত্তর চকরিয়া থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ কৃষকলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় দীর্ঘ ১২ বছর।
২০০২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এবং ইতিপূর্বে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পেকুয়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মানবাধিকার কমিশন পেকুয়া উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

‌কর্মজীবনঃ-

১৯৬৮-১৯৭০ইং পর্যন্ত পেকুয়া জিএমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ১৯৭২- ১৯৭৩ইং এবং ১৯৮৪-৮৮ ও ১৯৯২-৯৮ইং পর্যন্ত পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ইং থেকে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৫বার তিনি এডভোকেট এসোসিয়েশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-১৯৯৯ইং পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (রেডক্রিসেন্ট) পেকুয়া ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠতা টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

১৯৯২ ইং থেকে পর্যায়ক্রমে ২ বার পেকুয়া জি,এম,সি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় চকরিয়া উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন।

তিনি ২ বার পূর্ব গোঁয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে পেকুয়া উপজেলা আইন শৃঙ্কলা কমিটি, উপজেলা শিক্ষা কমিটি এবং কমিউনিটি পুলিশ পেকুয়া উপজেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পেকুয়া ইউনিয়নের মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়, পৃর্ব গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, হেফজখানা সহ অধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ম্মাননা ও পুরষ্কার অর্জনঃ-

১৯৯৩- ৯৪ইং এবং ১৯৯৫-৯৬ ইং কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে ২ বার স্থানীয় সরকার পুরষ্কার স্বর্ণ পদক অর্জন লাভ করেন।
সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য চকরিয়াস্থ আবদুল হামিদ সৃতি সংসদ ও কক্সবাজার মরহুম তোফায়েল আহমদ সৃতি সংসদ সম্মাননা পুরষ্কার লাভ করে।

তিনি চট্টগ্রামস্থ পেকুয়া সমিতি হতে শ্রেষ্ঠ গুনীজন পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৯৮ ইং তে কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী নির্বাচিত হন।

তিনি ২০১৪ ইং হতে পেকুয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশ স্বাধীনতায় অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনঃ-

তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ২ পুত্র সন্তান ৩ কন্না সন্তানের গর্বিত জনক। তার প্রথম সন্তান এড. রাশেদুল কবির যোগ্য উত্তারাধীকারী হিসেবে চট্টগ্রাম জজ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তার ২য় পুত্র মোহাম্মদ রায়হানুল কবির পেশায় একজন ইলেক্ট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ার, ১ম মেয়ে ফেরদৌসি কবির পেশায় একজন ফার্মাসিষ্ট, ২য় মেয়ে সুলতানা কবির (সাথী) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিষয়ে অধ্যয়নরত আছেন। ৩য় মেয়ে জন্নাতুল নাঈম চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগে অধ্যায়নরত।

তার সন্তান এডভোকেট রাশেদুল কবির বলেন, আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘ জীবন পেকুয়াবাসীর সেবা করে গেছেন। এখনো জনগণের সেবা থেকে সরে আসেননি। সাধারণ জনগণের ভালবাসার কথা পিতা আমাদেরকে মনে করে দেন। আমিও পিতার আদর্শ নিয়ে জনগণের সেবা করার জন্য মনস্থির করেছি। এ সুযোগ সাধারণ জনগণ দিলে পিতার মত সৎ ও যোগ্য হয়ে উঠার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। আমার পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •