হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ:
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশের কঠোর লকডাউনের প্রথমদিনে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ উপজেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন, সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া সাতদিনের সরকারি এই কঠোর ‘লকডাউন’ এর প্রথম দিনের শুরু থেকেই প্রশাসন পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ও সড়কে ব্যারিকেড দেয়া হয়। লকডাউন চলাকালীন জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হতে নিষেধ করছেন উপজেলা প্রশাসন।
সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসনসহ প্রত্যেক বাহিনী যৌথ ও আলাদা আলাদা মাঠে দেখা যায়।
একদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী’র নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ একটি টিম টেকনাফ পৌরসভার ও সাবরাং ইউনিয়নে পুরাতন বাস স্টেশন, শাপলা চত্বর, উপরের বাজার, লামার বাজার,গণি মার্কেট সহ সাবরাং বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় লগডাউন অমান্য করে দোকান পাট খোলা ও স্বাস্থ্য বিধি না মেনে যানবাহন চালানোর অপরাধে ৩ টি মামলায় ১০হাজার ৪’শ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমানসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্ব-স্ব ইউনিটের কর্মকর্তার্ উপস্তিত ছিলেন।
অপরদিকে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আবুল মনসুরের নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আরেকটি টিম হ্নীলা বাজার ও সদর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে ২৫ টি মামলায় ১২ হাজার ৬’শ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া হ্নীলা বাজারের সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা শতাধিক ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের পাশাপাশি লকডাউনে স্ব্যাস্থ বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিদর্শনা প্রধান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার (ওসি অপারেশন) খোরশেদ আলমসহ হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী।এরপর হ্নীলা ষ্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে ইজারাদার ও কতিপয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে গড়ে উঠা প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন।
অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব স্থাপনা এবং সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই ষ্টেশনে প্রায় সময় যানজট লেগেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠে। এই স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে আপাতত জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •