আবুক কালাম, চট্টগ্রাম :

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতায় সরকার ঘোষিত সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম নগরে লকডাউন ‘দেখতে’ রাস্তায় এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ২১ জন।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকালে নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

লকডাউনের প্রথম দিন আগ্রাবাদ এলাকা পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সানা শামিমুর রহমান। এ সময় উপকমিশনার (পশ্চিম) আবদুল ওয়ারীশ, সহকারী কমিশনার ডবলমুরিং অঞ্চল মাহমুদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আজ সকাল থেকেই একটি তল্লাশিচৌকি ও পাঁচটি টহল টিমের মাধ্যমে আমরা লকডাউন কার্যকরের চেষ্টা করছি। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকদের আমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি অকারণে যাঁরা বের হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। “লকডাউন কেমন চলছে” দেখতে বের হওয়া ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।’
ওসি মহসীন বলেন, আটকের মধ্যে কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ জানাতে পারেননি। অকারণে কাউকে বের না হওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

অন্যদিকে সিটি গেটে বসানো চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর তল্লাশি চলছে । এছাড়াও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথে অবস্থান নিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নগরের সিটি গেইট এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি শুরু করেন।

এছাড়াও লকডাউনে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন প্রবেশ পথে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মাঠে রয়েছে পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও আনসার সদস্যরা। এদিকে, নগরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশের সঙ্গে রয়েছেন ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরাদের নিয়ে নগরের সার্কিট হাউস থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বুধবার (৩০ জুন) থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত `কঠোর বিধিনিষেধ’ আরোপ করেছে সরকার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •