নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ২৬ জুন খরুলিয়ায় কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র বখাটে কফিল উদ্দীনের ছুরিঘাতে যুবক মোর্শেদ কামাল খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই নিরাপরাধ ব্যক্তিকে আসামী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে তাদের আসামী করা হয়েছে।

বুধবার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছেন ওই ব্যক্তির পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত করে ব্যবস্থার নেয়ার জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ আনা হয়, প্রকাশ্যে দিবালোকে খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার ছলিমের দোকানে কোনার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে কফিল উদ্দিন (১৪) ও বাজার পাড়া এলাকার আবু ছৈয়দের ছেলে মোর্শেদ কামাল (২৪) এর মধ্যে ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কফিল উদ্দিন ছুরি দিয়ে আঘাত করে মোর্শেদকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী পিতা মৃত রমিজ আহমেদের পুত্র মিজানুর রহমান ও স্থানীয় দোকানদার ছলিমের ছেলে মুফিদুল্লাহ। তারা পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে প্রিন্টও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষ্য প্রদান করেন। এই প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর ছাপানো হয়। কিন্তু নিহত মোর্শেদ কামালের মা মোস্তফা বেগম বাদি হয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় স্থানীয় নুরুল হক এবং তার ভাই সৈয়দুল হককে আসামী করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল হকের পুত্র শাহ রিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, হত্যাকারী কফিল তো দূরের কথা, তার পরিবারের কোনো সদস্যদের সাথেও আমার পরিবারের কারো সামনা-সামনি এবং মোবাইল ফোনে কখনো কোনো প্রকার যোগাযোগ হয়নি। হত্যাকারী কফিল উদ্দিনের সাথে আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ সাধিত হয়েছে কিনা তা প্রশাসন চাইলে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে উদঘাটন করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত মোর্শেদ কামাল নূরুল হকে চাচাতো বোনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে নিহতের পরিবারের সাথে তাদের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও তাদের সাথে আমাদের কোনো প্রকার শত্রুতার সম্পর্ক ছিল না। উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তাদের সাথে পরিবারের সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। ওই জমি দখল করার কুমানসে এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের ইন্দনে নিহতের পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নূরুল হক ও সৈয়দুল হককে মোর্শেদ কামাল হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে।

মূলত ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পিতা আবু ছৈয়দ একজন রোহিঙ্গা এবং দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়বা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। এ নিয়ে তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।

নূরুল হকের পুত্র শাহ রিয়াজ মোহাম্মদ আরো বলেন, আমার বাবা এবং চাচা এই নির্মম হত্যাকা-ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নন। তাছাড়া আমার চাচা সৈয়দুল হক দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। গত বছর লকডাউনের কারনে আর ফিরে যেতে পারেননি। আমি মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি, যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল অপরাধীকে খুঁজে বের করে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হোক এবং নিরপরাধ আমার বাবা নুরুল হক এবং চাচা সৈয়দুল হককে উক্ত মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি প্রদান করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নূরুল হকের স্ত্রী সাজেদা বেগম, সৈয়দুল হকের স্ত্রী জান্নাতুল বকেয়া ও ভাই আমানুল হক আনু।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •