সংবাদদাতা:
এবার মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। চলকডাউন বাস্তবায়নে তিনি বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের এসব শাস্তির কথা জানিয়েছেন।

শনিবার (২৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সারা দেশে রমজানের ঈদের পর থেকে সংক্রমণের হার আবার বাড়ছিল। গত ১৪ দিনে দেশে তা বেড়ে ১৩ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশে ২৮ তারিখ থেকে কঠোর লকডাউন হবে।

চট্টগ্রামেও এবার লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কেবল জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। আমরা সেটি কড়াকড়িভাবে দেখব। এছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ যেকোনো সভা-সমাবেশ ও জনসমাগম বন্ধ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, বিধিনিষেধ অমান্য করলে জরিমানার পাশাপাশি জেল দেয়ারও বিধান রয়েছে। আমরা মানুষকে জেল দিতে চাচ্ছি না, সচেতন করতে চাচ্ছি। তবে এবারে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা বড়ো অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডাদেশও প্রদান করব।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে করোনার যে ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে তা অত্যন্ত সংক্রামক। এটি খুব দ্রুত শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে নিয়ে যেতে থাকে। সুতরাং আমরা সকলকে আহ্বান করছি, আপনারা মাস্ক পরিধান করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’

লকডাউনে চট্টগ্রামের মাঠে থাকবে জেলা প্রশাসনের ১২ টিম। এছাড়া প্রতিটি উপজলায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিনটি টিম কাজ করবে।

লকডাউন বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘লকডাউন বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় মাত্র ১২ টিম কাজ করবে। তাদের পক্ষে এ পুরো শহরে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই আমি নগরবাসীকে অনুরোধ করছি, আপনারা সকলে সচেতন হবেন।’

চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আপাতত জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে থাকবেন।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •