সমিবিএন ডেস্ক
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ওঠা-নামা করছে পেঁয়াজের দাম। আমদানি বাড়ার পাশাপাশি মান কিছুটা খারাপ হওয়ার কারণে আবারও একদিনের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে প্রকারভেদে কমেছে কেজিতে ২ টাকা করে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। একদিন আগেও বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২৪ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও নাসিক জাতের যে পেঁয়াজ ২৯ টাকা পর্যন্ত ওঠেছিল তা ২/৩ টাকা কম দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, ক্রেতা না থাকায় ও দাম কম হওয়ায় অনেক আমদানিকারক বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস করে তাদের নিজস্ব গুদামে নিতে দেখা গেছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ও রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি করে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমিয়ে দিয়েছিলেন আমদানিকারকরা ।

এর ওপর, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজগুলো বন্দরে আসা পর্যন্ত ট্রাকে ত্রিপল দিয়ে বাধা অবস্থায় থাকছে। এসময় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না পাওয়ার কারণে গরমে মান খারাপ হয়ে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। এ পেঁয়াজ খানিকটা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছিল আমদানিকারকদের। এতে লোকসান হচ্ছিল তাদের। লোকসান কমাতে বন্দর দিয়ে আগের তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি কমে আসায় ও দেশের বাজারে সরবরাহ কমায় দাম বাড়তির দিকে ছিল।

তবে বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা ভালো হওয়ায় পেঁয়াজের আমদানি আবারও বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। বন্দর দিয়ে গত সপ্তাহের প্রথম দিকে ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি হয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদিনে বন্দর দিয়ে ৬৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৮ শ ৬৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আমদানিসহ দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে। একইসাথে বৃষ্টির সময়ে ট্রাকে থাকা ইন্দোর জাতের পেঁয়াজের মান এখনও কিছুটা খারাপ হওয়ার কারণে এসব পেঁয়াজ খানিকটা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন আমদানিকারকরা। এদিকে দু-একজন আমদানিকারক দাম কমের কারণে বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস করে তাদের নিজস্ব গুদামে নামিয়ে রাখছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •