আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে (৪৬) হত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিনকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৫ জুন) এই রায় ঘোষণা করা হয়।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, এই মামলার কৌঁসুলি চৌভিনের ৩০ বছর কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। আর চৌভিনের আইনজীবী চেয়েছিলেন তাকে মুক্তি দেয়া হোক। কিন্তু গত এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই আদালতে প্রমাণ হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেছেন, ‘ফ্লয়েডের পরিবার যে যন্ত্রণা পোহাচ্ছে সেই দিকে অবশ্যই আমাদের নজর দিতে হবে।’ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে বেদনাহত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল তাও উল্লেখ করেছেন আদালত।

রায়ের পর ফ্লয়েডের আইনজীবী বেন ক্রাম্প এক টুইটে বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক এই রায় অপরাধীকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেছে। রায়টি ফ্লয়েডের পরিবার এবং আমাদের সমাজকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।’

ফ্লয়েডের বোন ব্রিজেট ফ্লয়েড বলেছেন, ‘পুলিশের নির্মমতাকে রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে, এ রায় সে কথাই বলছে। তবে আমাদের আরও অনেক পথ যেতে হবে।’

তবে রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেইথ এলিসন। তিনি দাবি করেছেন, চৌভিনকে যে সাজা দেয়া হয়েছে তা যথেষ্ট নয়।

এদিকে চৌভিন আদালতকে বলেছেন, ‘আমি ফ্লয়েডের পরিবারের প্রতি শোক জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে আরও কিছু তথ্য বেরিয়ে আসবে। আমি আশা করি, এতে আপনারা মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।’ যদিও ফ্লয়েডের মামলা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কী তথ্য আসবে তা জানাননি চৌভিন।

চৌভিন এখন কারাগারে আছেন। এর আগে মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টির একটি আদালত গত ২১ এপ্রিল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তখন আদালত বলেছিলেন, পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে চৌভিনের কারাদণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হবে। সেই রায় ঘোষণা করা হলো শুক্রবার।

২০২০ সালের ২৫শে মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেফতার করে মিনিয়াপলিস পুলিশ।

গ্রেফতারের সময় আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্লয়েডকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় মাটিতে শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় ৯ মিনিট চেপে বসেন চৌভিন। ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। একপর্যায়ে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো মানুষ। শুরু হয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ। এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •