অনলাইন ডেস্ক: করোনার প্রকোপে ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাদ দিয়ে বিকল্প মূল্যায়নের পথে হাঁটা কঠিন। কারণ পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস করা হলেও এসব শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির আলোকে অ্যাসাইনমেন্ট করানো হয়নি। ফলে বছরের শেষে হলেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তেই অটল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ‘যদি করোনা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা না নেওয়া যায় সেক্ষেত্রে বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। ’ যদিও এখন পর্যন্ত বিকল্প নির্ধারণ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়।

এর আগেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, ‘দেরিতে হলেও পরীক্ষা নেওয়া হবে।’ একইভাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহম্মেদও বলেছেন ‘দেরিতে হলেও পরীক্ষা নেওয়া হবে। ’

সোমবার (২১ জুন) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিলেবাস ছোট করে দেরিতে হলেও পরীক্ষার নেওয়ার সিদ্ধান্তেই রয়েছি আমরা। বছরের শেষে হলেও পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদি না পারা যায় তখন বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে মূল্যায়ন করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার নেওয়ার সিদ্ধান্তেই রয়েছি।’

গত ১৫ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমারা দেখেছি অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। এসএসসির জন্য ৬০ দিন এবং এইচএসসির জন্য ৮৪ দিনের অ্যাসাইনমেন্ট আমরা দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করে যাবো, আরও কিছু সময় হয়তো দেখতে হবে। যদি দেখি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা একবারেই সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বিকল্প অনেক কিছুই চিন্তা করে রেখেছি। যদি পরীক্ষা নেওয়া না যায় তাহলে বিকল্প কীভাবে মূল্যায়ন হতে পারে, সেগুলো আমরা ভাবছি।’

বিকল্প কী চিন্তা করা হচ্ছে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক রকম চিন্তা আছে। কিন্তু পরীক্ষা হবে কী হবে না, এই মুহূর্তে বলে দিতে পারছি না। হয়তো খুব শিগগিরই সিদ্ধান্তটা নিতে হবে। পরীক্ষা নিতে পারবো কিনা? সেটা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’

শিক্ষামন্ত্রী অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ভাবনার কথা জানালেও ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট করানো হয়নি। আর এখন পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিও করা হয়নি। ফলে পরীক্ষার বিকল্প নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

করোনার কারণে পরীক্ষা না নেওয়া গেলে অটো পাস দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক. ড. সৈয়দ গোলাম মো. ফারুক বলেন, ‘অটো পাস দেওয়া হবে না। পরীক্ষা না নেওয়া গেলেও কোনও না কোনোভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ফল দেওয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •