স্পোর্টস ডেস্ক:

সেই ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকায় প্যারাগুয়েকে গোলের মালা পরিয়েছিল আর্জেন্টিনা। জয়ের ব্যবধানটা ছিল ৬-১। এর পর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তারা জিততেই ভুলে গিয়েছিল! জয় ছিল না ৪ ম্যাচে। তাই কোচ স্ক্যালোনিও প্যারাগুয়েকে বলছিলেন, শক্ত প্রতিপক্ষ। কিন্তু জয়ের ধারায় ফেরা আলবিসেলেস্তেদের সামনে এবার আর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেনি প্যারাগুয়ে। আর্জেন্টিনা জিতেছে ১-০ গোলে। তাতে কোপার কোয়ার্টার ফাইনালও নিশ্চিত হয়ে গেছে মেসিদের।

আর্জেন্টিনা দলে একটা পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচ থেকে শুরুর একাদশে ৬ পরিবর্তন আনেন স্ক্যালোনি। ওতামেন্দি, আকুইনার জায়গায় ছিলেন ত্যাগলিয়াফিকো ও পেজেল্লা। মিডফিল্ড থেকে দে পল ও লো সেলসোকে ড্রপ করে সুযোগ দেওয়া হয় গোমেজ ও পেরেদেসকে। আক্রমণেও ছিল দুই পরিবর্তন। লাউতারো মার্তিনেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেসের জায়গায় দি মারিয়া ও সের্হিয়ো আগুয়েরোকে বেছে নেন কোচ।

পরিবর্তনের পরেও শুরু থেকে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে মেসিদের। খেলার ধারায় ৮ মিনিটে সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি মিস করেন আগুয়েরো। প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ভুলে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গিয়েছিলেন আগুয়েরো। গোলকিপারকে একা পেয়েও তিনি বল মেরে দেন পোস্টের ওপর!

তবে ১০ মিনিটে কোনও ভুল করেননি আলেহান্দ্রো গোমেজ। শুরুতে মিডফিল্ড থেকে বল নিয়ে ক্ষীপ্র গতিতে দৌড় দিয়েছিলেন মেসি। ডানপ্রান্তে তিনি পাস দেন দি মারিয়াকে। প্যারাগুয়ে খেলোয়াড়কে কাটিয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় দেওয়া তার থ্রু বল ধরেই জাল কাঁপান গোমেজ। ১৮ মিনিটে ক্লোজ রেঞ্জ থেকে ফ্রি কিক নিলেও লক্ষ্য বরাবার রাখতে পারেননি মেসি।

আক্রমণে গিয়েছিল প্যারাগুয়েও। ২৬ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেও এসপিনোলা শট নেন লক্ষ্যের অনেক বাইরে। ৪৫+১ মিনিটে প্যারাগুয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান ২-০ হয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু প্রারম্ভিক শটের সময় দি মারিয়া অফসাইড পজিশনে থাকায় ভিডিও রিভিউতে বাতিল করা হয় সেই গোল!

দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে প্যারাগুয়ে আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল মেসিদের। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। বাম প্রান্তে আলমিরোন ত্রাস ছড়ালেও আর্জেন্টাইন ডিফেন্সের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেননি। যোগ হওয়া সময়ে ফ্রি কিক থেকে মেসি শট নিলেও সেটি রুখে দেন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক।

অপর দিকে হতাশার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি উরুগুয়ে। আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর চিলির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে সুয়ারেজরা।

ভালো সূচনায় ২৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল চিলি। ভারগাসের গোলে অগ্রগামিতা পায় তারা। শেষ চার ম্যাচে স্কোর না পাওয়া উরুগুয়ে সমতা ফেরায় দ্বিতীয়ার্ধে। কর্নার থেকে পাওয়া বলে পা ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিলেন পোস্টের সামনে দাঁড়ানো সুয়ারেজ। পাশে থাকা ভিদালের পা জড়িয়ে যাওয়ায় আত্মঘাতী গোলের খাতায় নাম লেখায় সেটি।

ড্র দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা ৩ ম্যাচ পর অর্জন করেছে ৭ পয়েন্ট। জয় তাদের দুটি। সমান ম্যাচে চিলির সংগ্রহ ৫। ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে প্যারাগুয়ে অবস্থান করছে তিনে। এর পরেই উরুগুয়ের স্থান। যাদের সংগ্রহ ২ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •