আহমদ গিয়াসঃ
বঙ্গোপসাগরের একমাত্র লিভিং ফসিল রাজকাঁকড়া বা হর্সশো ক্র্যাব। বিশ্বব্যাপী হারিয়ে যেতে বসা এ প্রাণিটিকে রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে গত বছর থেকে পালন করা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল হর্সশো ক্র্যাব ডে বা আন্তর্জাতিক রাজকাঁকড়া দিবস। ২০ জুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রাজকাঁকড়া দিবস পালন উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাজকাঁকড়া রক্ষায় ২০১৯ সালে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হর্সশো ক্র্যাব কনজার্ভেশন গ্রুপ, বাংলাদেশের (Horseshoe Crab Conservation Group, BD) উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরে সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গোপসাগরের নীল রক্তের প্রাণি রাজ কাঁকড়া আমাদের দেশের গর্বের ধন, এ প্রাণিটিকে রক্ষা করতে হবে। সেসাথে আমাদের সমুদ্র ও পরিবেশ সুরক্ষায় একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের সুনীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন ও এসজিডির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই নদী ও সমুদ্রকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্যের দূষণ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশসম্মত প্রযুক্তি অর্জন করতে হবে, যাতে কার্বন নি:সরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।
রাজকাঁকড়া নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএফআরআই) কে সভায় ধন্যবাদ জানানো হয়।
হর্সশো ক্র্যাব কনজার্ভেশন গ্রুপ, বাংলাদেশের টিম লিডার আহমদ গিয়াসের (Ahmad Gias) সভাপতিত্বে ও সদস্য মাঈনুদ্দিন হাসান শাহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আরো বক্তব্য দেন বিএফআরআই সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পিএইচডি ফেলো) ও এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সমুদ্রবিজ্ঞানী মোহাম্মদ আশরাফুল হক এবং সংগঠনের সীতাকুন্ড শাখার টিম লিডার তপন কান্তি দাস। এসময় সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কক্সবাজারস্থ বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক পদে সদ্য যোগদানকৃত সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দরকে স্বাগত জানিয়ে আশা করা হয়, তাঁর নেতৃত্বে দেশের সমুদ্র ও পরিবেশ রক্ষায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি গবেষণাসহ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •