নিজস্ব প্রতিবেদক:
এড. সালামতুল্লাহ ছিলেন আপাদমস্তক আদর্শিক মানুষ। শত প্রতিবন্ধকতায়ও নীতি আদর্শ থেকে তিনি একটুও বিচ্যুত হননি। বহুগুণের অধিকারী এড. সালামতুল্লাহ একাধারে আইনজীবী, সাংবাদিক, রাজনীতিক, লেখক ও সংগঠক। ইসলামি চিন্তাধারার এই মানুষটি আজীবন নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

শনিবার (১৯ জুন) বিকালে নাগরিক পরিষদের স্মরণ সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ঝিলংজা ইউনিয়নের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান মাওঃ আবদুল গফুর।

সাবেক ককসু ভিপি ও ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বাহাদুর ও বার্ডস আই লেখক একেএম মাহফুজুল হকের পরিচালনায় সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক শিক্ষাবিদ মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আবুল কালাম ছিদ্দিকী, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল্লাহ মোঃ হাসান, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সাবেক যুগ্ম মহাসচিব জিএএম আশেক উল্লাহ, কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃ জাফরুল্লাহ নুরী, সাহারবিল আনায়ারুল উলুম কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওঃ শফিউল হক জিহাদী, হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার, কক্সবাজারস্থ সাতকানিয়া লোহাগড়া সমিতির সেক্রেটারি জেবর মুলক, কক্সবাজার আসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডাঃ মোহাম্মদ আমিন, কক্সবাজার আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আকতার উদ্দিন হেলালী, জেলা পুস্তক ও প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক, মাওঃ ফরিদুল আলম, সাবেক ককসু ভিপি সৈয়দ করিম, এড. তাহের আহমদ সিকদার, তারেক বিন মোক্তার, সৌদি প্রবাসি এমএ মান্নান, এড. সালাহ উদ্দিন, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হাসান, এম ইউ বাহাদুর, সাহাব উদ্দিন, এনআর মাসুদ, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ফরিদুল আলম ও অধ্যাপক সৈয়দ নুর।

দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব, চুনতি ও সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক।

আলোচনায় শিক্ষাবিদ মাস্টার সিরাজুল ইসলাম বলেন, এড. সালামতুল্লাহ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। যেখানে মানুষের কল্যাণ, সেখানে নিবেদিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল। তার গুণকে জেলাবাসী কাজে লাগাতে না পারলেও আমি বায়তুশ শরফের জন্য কাজে লাগিয়েছি তার মেধা, যোগ্যতা ও মননকে। তার বিচক্ষণতা ও যোগ্যতায় আমার বদলী টেকানো হয়েছে।

এড. আবুল কালাম ছিদ্দিকী বলেন, একজন বুদ্ধিদীপ্ত সংগঠক ছিলেন এড. সালামতুল্লাহ। তিনি ইসলামি চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ ছিলেন। আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। তার নেতৃত্বে এতদঞ্চলে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে যা একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যার সুফল জেলাবাসী পাচ্ছে। কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছাড়াও ক্লাবের প্রথম সভাপতি ছিলেন এড. সালামতুল্লাহ।

টেকনাফ হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, মরহুম সালামতুল্লাহ ইসলামি আন্দোলনের নিবেদিত সংগঠক ছিলেন। তিনি পরোপকারী ও মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে তার তুলনা হয়না। আমৃত্যু তিনি আদর্শ ও নীতি নৈতিকতাকে ধারণ করেছেন।”

সাংবাদিক মাহবুবর রহমান বলেন, এড. সালামতুল্লাহকে হারানোর মধ্য দিয়ে আমরা একজন পরিপূর্ণ জনহিতৈষী মানুষকে হারিয়েছি। মানবিক মূলবোধে তার মতো একজন মানুষের বড় প্রয়োজন। তার কর্মের মধ্য দিয়ে এই প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছেন। তিনি ভালো ও নীতিবান মানুষ ছিলেন। সত্যিকারের সৎ আইনজীবীর স্বপ্ন তিনি দেখতেন তা যেন পূরণ হয়, সেই প্রত্যাশা করছি।“

সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, “এতগুলো মানুষ তার সম্পর্কে কথা বলছেন, এগুলো শুধু কথার কথা নয়। তারা উপলব্ধি থেকেই কথা বলেছেন।”

সাংবাদিক নেতা মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, “মানুষ হিসেবে অতুলনীয়, সংগঠক হিসেবে সবার আগে। কর্ম-চিন্তার মধ্যে ছিল মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সে সঙ্গে ছিলেন আপসহীন মানুষ।”

মাওঃ জাফরুল্লাহ নুরী বলেন, “মেধাবী, সৎ ও নিষ্ঠাবান একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি সব ক্ষেত্রে সফল।

সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি নীতিবোধ, নৈতিকতা, ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শকে সঙ্গী করে আমৃত্যু পথ চলেছেন।” অমায়িক, নম্র, ভদ্র, নির্লোভ ও নিরহংকার ছিলেন। তাঁকে এমপি মন্ত্রীর অফার দেয়া হলেও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ছিলেন নম্র, ভদ্র ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •