সিবিএন ডেস্ক:
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন শতভাগ ই-ফাইলিং ব্যবস্থায় চলবে দেশের এক হাজার ৭০০ অফিস। ইতোমধ্যেই ই-ফাইলিং ব্যবস্থা শুরু করা হয়েছে। আদালত সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ও এজি (অডিটর জেনারেল) অফিসের আর্থিক কিছু জরুরি ফাইল ছাড়া ২০২২ সাল থেকে সকল ক্ষেত্রে ই-ফাইলিং চলবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘দেশের সকল অফিসার স্টাফকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। পুরো ডিজিটাল সিস্টেমে ফাইল ট্রান্সফার ও সিদ্ধান্ত হবে। কিছু মামলা মোকদ্দমা এবং এজি অফিসের আর্থিক ফাইল যেগুলোতে হার্ড কপিতে স্বাক্ষর জরুরি সেগুলো হবে হার্ড কপিতে। এ ছাড়া প্রজেক্টের কিছু কাজ রয়েছে হার্ড কপিতে করতে হয়। তা ছাড়া সব ক্ষেত্রেই ই-নথি ব্যবস্থা চলবে। ইতোমধ্যে আমরা শুরু করেছি। করোনার মধ্যে যখন অফিস করতে পারিনি তখন ঘরে বসেই সব কাজ করেছি। অধিদফতরের আওতায় ১ হাজার ৭০০ অফিসে ই-ফাইলিং শুরু হয়ে গেছে। ২০২২ সাল থেকে সব কার্যক্রম ই-ফাইলিং ব্যবস্থায় পুরোপুরি চলবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘অ্যানালগ পদ্ধতিতে করলে বেশি সময় নষ্ট হয়। হাতে হাতে না পৌঁছালে সচিবালয়ে একটি ফাইল যেতে সময় লাগে এক সপ্তাহ। আর ই-ফাইলে এক মুহূর্তেই পাঠানো যায়। স্কুল পর্যায়ে এখনই আমরা পৌঁছাতে পারছি না। প্রশিক্ষণ দিতে হবে শিক্ষকদের।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের ১ হাজার ৭০০ অফিসকে পেপারলেস অফিস করার উদ্যোগ নেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক। নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় উপ-পরিচালক এবং জেলা শিক্ষা অফিসে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ দেন। বর্তমানে দেশের বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিস, উপজেলা ও থানা রিসার্স সেন্টারসহ অধিদফতরের সব অফিসে ই-ফাইলিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সকল অফিসের সব কাজে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আদালত ও এজি (অডিটর জেনারেল) অফিসের আর্থিক কিছু জরুরি ফাইলের কার্যক্রম হার্ড কপিতে করা হবে। সেবাগ্রহীতার হার্ড কপির আবেদন স্ক্যান করে ই-ফাইলে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার মতামত দিতে পারবেন ই-নথির মাধ্যমে।

এদিকে, অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া বিভাগের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সেবা পাওয়া সহজ করতে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ই-মেইল আইডি খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আদেশ প্রজ্ঞাপন, অধিদফতরসহ বিভাগীয় নির্দেশনা ই-মেইলে পাঠানোর লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নেন বলে জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।

উপ-পরিচালক মো. ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষকদের ছুটি নিতে শিক্ষা অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ই-মেইলে শিক্ষকরা ছুটির আবেদন করে ছুটি নিতে পারবেন। শিক্ষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং সেবা পাওয়া সবার জন্যই সহজ হয় সে লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় অফিস ছাড়াও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে ই-ফাইলিং চালু করা হয়েছে।’

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা অনলাইনে শিক্ষকদের ছুটি দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছেন করোনা পরিস্থিতির আগেই। বর্তমান ঈশ্বরদীতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত মো. আসলাম হোসেন তার ক্লাস্টারে শিক্ষকদের ছুটিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করেন অনলাইনে। এর আগে ২০১৯ সালে পাবনা সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তিনি প্রথম এই সার্ভিস শুরু করেন। তার এই উদ্যোগের নাম দেন ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য আদান-প্রদানে অনলাইন সার্ভিস’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •