মোঃ ফারুক,পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমি জবর দখল শেষে পাশের বাড়ির গৃহবধু সেলিনা আক্তারকে গুলি করে হত্যা, ভাতিজা নাজমুল সাকিব, মেয়ের জামাই সাইফুর রহমানকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামীর মধ্যে মোঃ মফিজ বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রাজিব কুমার দেবের কাছে লিখিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গত ১২ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে বারবাকিয়া ইউপির বুধামাঝির ঘোনা এলাকায় হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।

বিজ্ঞ আদালতের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার বারবাকিয়া ইউপির বুধামাঝির ঘোনার মোহাম্মদ হোছনের ছেলে মফিজ তার জবানবন্দিতে আরো বলেন, জমি নিয়ে তার পিতা মোঃ হোছনের সাথে নজরুল ও নুরুল ইসলাম গংয়ের সাথে বিরোধ ছিল। জমিটি দুই পক্ষই দাবী করায় স্থানীয়ভাবে তার সমাধানে বেশ কয়েকবার বৈঠকও হয়। কিন্তু বৈঠকে কোন ধরণের সুরহা না হওয়ায় বেশ কয়েকবার মারামারিও হয়। সর্বশেষ ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে তার বাবা তাকে ঘুম থেকে ঢেকে তুলেন জমি জবর দখল করার কথা বলে। ঘুম থেকে ওঠে তাদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়া করা ২২জনকে তাদের বাড়িতে গোপন বৈঠকে দেখতে পান। বিভিন্ন জনের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকার পাশাপাশি হামলার নেতৃত্বে থাকা ভাড়াটিয়া মামুনের হাতে বন্দুক ও মানিকের হাতে কিরিচ দেখতে পান। জমি জবর দখল করতে গিয়ে অপর গ্রেফতার তার ভাই মাহামুদুল করিম নির্দেশ দেন যারাই তাদের কাজে বাধা দিবেন তাদেরকে মেরে ফেলতে হবে। ওখানে বাধার সম্মোখীন না হয়ে জমি জবর দখল করে চলে যাওয়ার সময় রাত ১টার দিকে পাশের বাড়ির ফরিদের বাড়িতে পাথর মেরে বাড়ির লোকদের ক্ষিপ্ত করে তুলেন সন্ত্রাসীরা। ওই সময় বাড়ির টিনে পাথরের আওয়াজ শুনে ঘর থেকে ফরিদ, তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার, ভাতিজা নাজমুল সাকিব ও মেয়ের জামাই সাইফুর বাড়ি থেকে বের হন। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের সাথে ফরিদের বাড়ির লোকদের মারামারি হয়। ওই সময় তার ভাই মাহামুদুল করিমের নির্দেশে মামুন তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। তার মধ্যে বেশ কয়েকজন তাদের কোপাতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ গৃহবধু সেলিনা, নাজুমল সাকিব ও সাইফুর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই সময় মিনহাজ নামে একজন তাদেরকে উদ্ধার করতে আসলে কিরিচ দিয়ে ভয় দেখিয়ে চলে যেতে বাধ্য করে।

এ ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় নজরুল ও সিরাজসহ আরো কয়েকজন মফিজ ও মাহামুদুল করিমকে ধৃত করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ১২ এপ্রিলের এ ঘটনার পর গুলিতে আহত গৃহবধু সেলিনা আক্তার, সাকিব ও সাইফুরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন স্বামী ফরিদুল আলম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ওইদিন স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই আসামী গ্রেফতার হলেও ঘটনায় জড়িত মানিক- মামুনসহ তাদের বাহিনীর কোন সদস্য গ্রেফতার হয়নি।

মামলার বাদী ফরিদুল আলম বলেন, গ্রেফতার দুই আসামীর মধ্যে মফিজ বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নামউল্লেখকৃত আরো ২০ আসামী এখনো পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে আছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা আমাকে মামলা প্রত্যাহার করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যদি মামলা প্রত্যাহার না করি তাহলে আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে আমাকেও স্ত্রীর মত ভাগ্যবরণ করতে হবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ আসামী গ্রেফতার না করায় ৫ সন্তান নিয়ে আতংকের মধ্যে দিনাপাত করছি। ছেলে মেয়েরাও তাদের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারেনা। আসামীদের গ্রেফতার করতে বারবার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু তারা বলে আসামী খোঁজে পাচ্ছেনা।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদার এক আসামী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা শিকার করে বলেন, ঘটনার পরপরই আসামীরা পালিয়ে যায়। ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য অবস্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশ তাদেরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •