সিবিএন ডেস্ক:
আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা হাসপাতালে মৃত করোনা রোগীর লাশ গ্রহণ করেনি তার পরিবার। এ কারণে লাশটি হাসপাতালেই পড়েছিল ১২ ঘণ্টা। খবর পেয়ে রামপালের খেদমতে খালফ নামের মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী টিমের চার সদস্য মৃত হিন্দু ব্যক্তির সৎকারের উদ্যোগ নেন। পরে মৃত ব্যক্তির ছেলে মুখাগ্নি করলেও বাবাকে স্পর্শ করেননি তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার বেতকাটা গ্রামের এক রোগী এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে টেস্টে তার করোনা শনাক্ত হয়। মৃত্যুর আগে এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৷ ১৫ জুন দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। এ খবর পেয়ে পরিবারের কোনও সদস্য তার লাশ গ্রহণ বা সৎকার করতে আসেননি।

পরে রামপাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী টিমকে খবর দেওয়া হয়। পরদিন সকালে (১২ ঘণ্টা পর) তারা লাশটি নিয়ে সৎকার সম্পন্ন করেন।

খেদমতে খালফ নামের ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের টিম লিডার মাওলানা হোসাইন আহমদ বলেন, হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রাতে আমাদের জানানো হয়। পরদিন (বুধবার) সকালে লাশটি বের করে নিজেরাই ভ্যান ঠিক করে মিরাখালী শ্মশানে নিয়ে যাই। শুধুমাত্র মুখাগ্নি করার জন্য তার ছেলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি তার বাবাকে ধরেননি বা স্পর্শ করেননি।

এদিকে হিন্দু ব্যক্তির লাশ সৎকারে এগিয়ে আসা মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা জুলফিকার আলী, আব্দুর রহমান ও দেলোয়ার হোসাইনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রামপাল সদরের ইউপি সদস্য মিকাইল হোসেন বলেন, করোনাকালে এ ধরনের উদার মানসিকতা এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে এলাকার যুবকরা অনুপ্রাণিত হবেন। এমনকি এরপর থেকে এমন কাজে আমিও অংশ নেবো।

খেদমতে খালফ টিমের সদস্যদের মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা জুলফিকার আলী, আব্দুর রহমান ও দেলোয়ার হোসাইনের মানবিক আচরণ অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শুকান্ত কুমার পাল। তিনি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •